
ভোটে হারল বেঙ্গল লাইন, সীতারাম যাচ্ছেন না রাজ্যসভায়
সিপিএমের প্রকাশ কারাত যদিও প্রয়াত জ্যোতি বসু বা ভি এস অচ্যুতানন্দনদের মতো আন্দোলন থেকে উঠে আসা নেতা নন। কিন্তু বহু দিন ধরেই সিপিএমের রাশ তাঁরই হাতা। সাধারণ সম্পাদক না থেকেও দলে এখনও তিনিই শেষ কথা। জ্যোতি বসুর প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণও আটকে ছিলেন তিনি, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে বহিষ্কারের মূলেও ছিলেন তিনি। সিপিএম সমর্থকদের মধ্যে যখন স্লোগান উঠেছে, ‘কেন্দ্রে নাথুরাম, সংসদে চাই সীতারাম’, তখনও প্রধান বাধা কারাতই।
সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির রাজ্যসভায় যাওয়া নিয়ে দলের পলিটব্যুরোতেও হেরেছিল সীতাগোষ্ঠী। সীতারাম ইয়েচুরির রাজ্যসভায় যাওয়া আটকে দিল কেন্দ্রীয় কমিটিও। মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় কমিটিতে এই নিয়ে ভোট হয়। ভোটাভুটিতে ৫০-২৮ ভোটে গোহারা হেরে যায় সীতারাম ইয়েচুরি গোষ্ঠী। প্রায় দ্বিগুণ ভোট পায় কারাত শিবির। প্রমাণিত হয়, ইয়েচুরি দলের সাধারণ সম্পাদক হলেও কেন্দ্রীয় কমিটিতে এখনও কারাত গোষ্ঠীর একচ্ছত্র আধিপত্য। একই সঙ্গে এদিন সিদ্ধান্ত হয়েছে, রাজ্যসভার ভোটে দল কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনও জানাবে না। ইয়েচুরির এই পরাজয় বাংলার কমরেডদের পক্ষেও ধাক্কা। কারণ, এদিনের বৈঠকে শুরু থেকে বাংলার কমরেডরা সীতারামের পক্ষে সওয়াল করছিলেন।
ইয়েচুরিকে রাজ্যসভায় পাঠানোর পক্ষে সওয়াল করেন বাংলা এবং ত্রিপুরার সদস্যরা। অন্যদিকে দলের সাধারণ সম্পাদকের পুনরায় সংসদে যাওয়া আটকাতে মরিয়া ছিল কট্টরপন্থী কেরল শিবির। তবে সিপিএমের প্রবীণতম নেতা কেরলের ভি এস অচ্যুতানন্দন রীতিমতো চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানিয়ে দেন, তিনি ইয়েচুরিকে তৃতীয়বারের জন্য রাজ্যসভায় পাঠানোরই পক্ষে।
সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের প্রথম দিনেই, মঙ্গলবার, প্রথমার্ধেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। খবর, একেবারে শুরু থেকেই বেজায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক। এই ইস্যুতে বলতে গিয়ে প্রকাশ কারাত সাফ বলেন, কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে সীতারাম ইয়েচুরিকে যদি বাংলা থেকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়, তাহলে তা পার্টি লাইন ভঙ্গ করা হবে। সূত্রের খবর, নিজের ভাষণে কারাতের বক্তব্যকেই সমর্থন করেন কেরলের অপর বর্ষীয়ান নেতা এম এ বেবি।
কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের আরও সিদ্ধান্ত, সিপিএম কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত তো নেবেই না, রাজ্যসভা ভোটে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনও করবে না সিপিএম।
