
প্রতিদিন ৩০০-৪০০ ভ্যান মাটির সামগ্রী যাচ্ছে নেপালে
পাশেই নেপালের বিশাল বাজার। ভারত-নেপাল চুক্তি অনুযায়ী দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য চালানো যায় অবাধে। নেপালে কুমোরের অভাব। তাই নেপালের সীমান্ত লাগোয়া ভারতীয় কুমোরদের খুব সহজেই অনেকটা অর্থ উপার্জনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এতদিন বাধ সাধছিল হাতে চালানো কুমোরের চাকা। উৎপাদন এত কম হত এই চাকায় যে চাহিদা অনুযায়ী জোগান দেওয়া সম্ভব ছিল না। স্থানীয় হাটে মাটির হাঁড়ি-কলসি বিক্রি করে লাভের মুখ দেখতে হিমসিম খেতে হত কুমোরদের। তারপর সরকারি সাহায্যে এক সময় বিদ্যুৎচালিত চাকা এল। সামান্য কিছু প্রশিক্ষণেই ঘটল ম্যাজিক। উৎপাদন অনেক গুণ বেড়ে গেল। হাঁড়ি-কলসির সঙ্গে তৈরি হতে থাকল মাটির ধূপদানি, বোতল, ফুলদানি, প্রদীপ, আরো অনেক কিছু। নেপালের বাজারে সেগুলো রপ্তানি করে বরাত খুলে গেল খড়িবাড়ির কুমোরদের।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দপ্তরের উদ্যোগে খড়িবাড়ি ব্লকে বাতাসি গ্রামে কারিগরদের বিদ্যুৎচালিত চাকার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যার ফলে এখন প্রতিদিন সেখানকার পালপাড়া থেকে ৩০০-৪০০ ভ্যান মাটির সামগ্রী যাচ্ছে নেপালে। লাগোয়া নেপালের কাঁকড়ভিটা, ধুলাবাড়ি, বীরতা মোড় হয়ে সেই সব জিনিস গোটা নেপালে ছড়িয়ে পড়ছে। আগে যে জিনিসগুলো শিলিগুড়ি থেকে যেত, এখন সেগুলো বাতাসি থেকে নেপালে যায়। বাজারের সায় পেয়ে এখানকার মৃৎশিল্পীরা ছোটোখাটো উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। বাতাসির আশেপাশে অন্যান্য জায়গার বহু মানুষ মৃৎশিল্পের পেশায় আসতে শুরু করেছেন। গৃহবধূরাও ঘরের কাজকে সামলে মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে অল্পসল্প রোজগার করার সুযোগ পাচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই খড়িবাড়ির মৃৎশিল্পীরা এবং তাদের পরিবারগুলি দারুণ খুশি। গোটা অঞ্চলের অর্থনীতিতেও এই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুফল পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় মানুষ।
প্লাস্টিকের জিনিসের থেকে মাটির তৈরি জিনিস অনেক সস্তা। তাই পরিবেশবান্ধব মাটির জিনিসের বাজার ক্রমশই বাড়ছে। বিশেষ করে নেপালে গরমকালে মাটির বোতলের চাহিদা খুব বেশি থাকে। নেপালের বেশিরভাগ মানুষই খুব দরিদ্র, তাই রেফ্রিজারেটর কেনার সামর্থ্য অনেকেরই নেই। তারা গরমকালে মাটির বোতলই ব্যবহার করেন। ২৫ টাকা দরে বাতাসির তৈরি মাটির বোতল বিক্রি হচ্ছে নেপালে।
