ফিলিপ ঘোষের জিহ্বাগ্রে আরশোলা

বাংলায় রাজনৈতিক নেতারা অনাবশ্যক বাক্য ব্যবহার করে অভ্যস্ত। সাম্প্রতিক কালে দিলীপনেতা ওরফে ফিলু ঘোষ তাতে হেট্রিক করলেন

বাংলায় ঘোষ বর্ণ, অঘোষ বর্ণের কথা সবাই জানেন। এবার বাংলা বাজারে নতুন এল ফিলিপ ঘোষ বর্ণ। এক্ষেত্রে অবশ্য বর্ণ না বলে বাক্য বলাই ভালো। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন মেক ইন ইন্ডিয়ার কথা। পদ্মপার্টির এই ফিলিপ ঘোষ হলেন মেক ইন খড়গপুর। কালিদাসের যেমন ছিল জিহ্বাগ্রে সরস্বতী। ফিলিপ ঘোষের জিহ্বাগ্রে আরশোলা। ফরফর করলেই গল গল। তার মুখ-ম্যানহোল থেকে বর্জ্য উথলে ওঠে।

ফিলিপ ঘোষের স্বপ্ন দোষ অনেক। এক বার ফিলিপবাবু বললেন, তার খুব শখ, নম্বর টম্বর তেমন ছিল না বলে, তিনি কখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকেননি, কিন্তু বড় ইচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের কলার ধরে টেনে বের করে আনবেন। পার্টির নেতারা বললেন, আহা ফিলুর এই সামান্য ইচ্ছেটা পূরণ হবে না! যাও যাও মিছিল করে গিয়ে কলার ধরে ধরে ওদের বের করে আনো। যে কথা সেই কাজ। মিছিল এগোলো বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে। লিফলেট ছড়াতে ছড়াতে। বিশ্বিদ্যালয়ের ছাত্ররা বলল, ওই এক পাতার লিফলেটে ৫৭টা বানান ভুল। এই বিদ্যে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট দিয়ে ঢোকা যায় না। পাচিল টপকে ঢুকতে হবে। কিন্তু তাও পুলিশ দিল না। পার্টি থেকে নাকি ফিলিপকে বলা হয়েছে, দুঃখ কোরো না। পদ্ম ক্ষমতায় এলে, বক রাক্ষসকে যেমন প্রতিদিন এক জন করে মানুষ পাঠাতে হত, তেমনি, ফিলিপবাবুকেও প্রতিদিন ১০ জন করে বড় বড় কলার ওয়ালা জামা পরা ছাত্রকে পাঠানো হবে। আর ফিলিপবাবু ওই সব বড় বড় কলার নিজের জিভ বের করে টানাটানি করবেন। এই শুনে ঘোষবাবু প্রথমে ক’দিন চুপ করেই ছিলেন। কিন্তু তার মন মানছিল না। ফলে ফের ‘মনকি বাতে’ সাড়া দিলেন ফিলিপ ঘোষ। বায়না ধরলেন, দিল্লিতে বিমূদ্রায়ণ নিয়ে বিক্ষোভের সময় মুখ্যমন্ত্রীকে চুলের ঝুঁটি ধরে টেনে নিয়ে যেতে চান তিনি। সবাই শুনেই ছি ছি করতে শুরু করল। দলের নেতারা থুতনি নেড়ে বললেন ছিঃ ফিলুভাই অমন বলতে নেই। ফিলু তবু পা ছড়িয়ে অনেক কেঁদেছিল। পরে সবাই মিলে বুঝিয়ে সুঝিয়ে তাকে বলে যা ফিলু বিধানসভায় গিয়ে ক্ষমা চেয়ে আয়। অনেক তা না না না করে শেষে ফিলু ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে, যদি আমি বলে থাকি, যদি কারও আঘাত লেগে থাকে ইত্যাদি বলে হাত কচলালেন।

তার পর ফের ক’দিন কাটল। কিন্তু সেই যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো রেজাল্ট করা ছেলে মেয়েদের কলার ধরে টানতে না পারার ব্যর্থ স্বপ্ন, এটা ফিলু ঘোষকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। অবস্থা এমন হল যে কোনও পণ্ডিত মানুষ দেখলেই ফিলুর ঘোষ-পাঁচড়া চিড়বিড় করে উঠছিল। এমন সময় কানের কাছে কে যেন অমর্ত্য সেনের নাম করতেই ফিলিপ ঘোষ গোঁ গোঁ করতে করতে মাঝ রাত্তিরে ছাতা মাথায় বেরিয়ে পড়লেন। আর যাকেই দেখছেন ডেকে ডেকে বলতে থাকলেন, আরে ভাই ওই নোবেল পাওয়া লোকটা কে? ও দেশের জন্য কী করেছে। কই নাথুরাম গডসেকে তো কেউ নোবেল প্রাইজ দেয়নি। যত্ত সব! এই বলে হন হন করে হাঁটা দিচ্ছেন ছাতা মাথায় দিয়ে।

Developed by DXDasia