সবাই ইচ্ছেমতো, খুশিমতো ছবি আঁকবে, মাটির পুতুল বানাবে, কবিগুরু নাকি তাই চাইতেন

আমি ভাবতাম বাবাদেরই বুঝি ছবি ঝোলে বিড়লা অ্যাকাডেমিতে। এবার সেটা যে ভুল তা বুঝলাম। ২০১৭, আমার ক্লাস ফাইভ। পাঠভবন স্কুলে। ফাইভ থেকে ইলেভেন-এর দাদা দিদিদের সঙ্গে প্রদর্শনী।

 

৪-৭ই মে বিড়লায় দোতলায়। হরেক রকম কারুকাজ। ছবি, মূর্তি, উড়ে যাওয়া ঘুড়ি, পড়ে ফেলা চিঠি, পোড়ামাটির পুতুল, ডোকরার খেলনা, কাগজকাটা ফুল, কাগজ ছাপ, কাঠখোদাই, হ য ব র ল বই-এর নকশা এইসব। কিছু উদ্ভট, কিছু কিম্ভুত কিন্তু মজার।

 

প্রতি শীতে বাবাদের সোসাইটি অফ কন্টেম্পোরারি আর্টিস্টস দলের প্রদর্শনীতেও কতরকমের উদ্ভট খেয়ালের ছবি, মূর্তি থাকে আমি দেখি তো! আমাদেরগুলোতে অনেক বেশি মজা।

 

আমরা পাঠভবন প্রাইমারিতে আনন্দমেলায় যা কিছু আর্ট ক্লাসে কমলিকা মিসের সঙ্গে মিলে বানাতাম সেইরকমেরই কাজ কারবার। বড় ক্লাসের দাদা দিদিরা মিসেদের সঙ্গে মিলে একটা জালের মধ্যে অনেক পোস্টকার্ড লেখা চিঠি ঝুলিয়ে দিয়েছিল।

 

বাবা বলেছে এটাকে ইন্সটলেশন আর্ট বলে। আমার বেশি ভালো লেগেছে অবশ্য এক দিদির আঁকা সিন্দবাদ নাবিকের ছবি আর চিঠির জালের পাশে মাছরাঙানো ঘুড়ি। বাবার কাছে শুনেছি যে শান্তিনিকেতন পাঠভবন, কলাভবনেও এইরকম নানারকম মজার কাজের প্রদর্শনী হয়।

 

সবাই ইচ্ছেমতো, খুশিমতো ছবি আঁকবে, মাটির পুতুল বানাবে, কবিগুরু নাকি তাই চাইতেন। আমরা পাঠভবনে তাই করি। সামনের বছরও করব এইসব। তখন আমি ক্লাস সিক্স হব।

 

 

Developed by DXDasia