
কাব্যসাহিত্যে অবদানের জন্য কবিকে এই সম্মান অর্পন করা হবে
জলপাইগুড়ি নিবাসী কবি বিজয় দে’কে প্রথম ‘মাইকেল মধুসূদন দত্ত স্মৃতি পুরস্কার’ দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা অকাদেমি (Paschimbanga Bangla Akademi)। বাংলা অকাদেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৬ মে নজরুল তীর্থে (Nazrul Tirtha) কাব্যসাহিত্যে অবদানের জন্য কবিকে এই সম্মান অর্পন করা হবে।
কবি বিজয় দে’র (Bijoy Dey) জন্ম ১৯৫১ সালের ১লা জানুয়ারী। স্থান জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri), নতুনপাড়া। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় (North Bengal University) থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক এই কবি দীর্ঘদিন ব্যাঙ্কে কাজ করেছেন, এখন অবসরপ্রাপ্ত। লেখালিখি ১৯৭৫ সাল থেকে। সম্পাদিত পত্রিকা পাগলাঘোড়া, কবিতা জংশন ( এখন আর প্রকাশিত হয় না )। ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম বই, ‘হে থুতু হে ডাকটিকিট হে অরণ্য’। পরের বই ১৯৯৪ সালে, নাম ‘কাঠুরিয়া আন্তর্জাতিক’। তারপর ‘বম্বে টকি’ ২০০০ সালে। দীর্ঘদিন বিরতির পর আসে ‘জঙ্গলসূত্র’, ২০১৫ সালে। ২০১৬-তে ‘এখন’ থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর দুটি বই—‘কামরাঙা এবং ট্রামলাইন’ আর ‘বাবলিবাগান’। প্রসঙ্গত, ‘বাবলিবাগান’ সিরিজের কবিতার শিরোনামে ব্যবহৃত উদ্ধৃতিগুলি তাঁর প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশের গল্প-উপন্যাস থেকে গৃহীত।
তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সম্পূর্ণ তালিকা:
০১. হে থুতু হে ডাকটিকিট হে অরণ্য, ১৯৮৫
০২. কাঠুরিয়া আন্তর্জাতিক, ১৯৯৪
০৩. বম্বে টকি, ২০০০
০৪. বাবলিবাগান, ২০১৫
০৫. জঙ্গলসূত্র, ২০১৬
০৬. কামরাঙ্গা এবং ট্রামলাইন, ২০১৬
০৭. হাতবোমা, ২০১৭
০৮. কবির স্বপ্ন জ্বলে সাপের মাথায়, ২০১৭
০৯. সকল বৃক্ষের চুমুক, ২০১৮
১০. টুকটুকি বাড়ি নেই, ২০১৯
১১. বৃষ্টিমাতরম, ২০২০, (বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত)
১২. সমগ্র মধুবালা কেবিন, ২০২২
১৩. প্রেমপত্র পুঁটিবালা, ( ধানসিড়ি থেকে প্রকাশিতব্য)
কাব্যচর্চায় এই পুরস্কারকে বড়ো প্রাপ্তি বলে মনে করছেন বিজয় দে। এর আগেও ২০১৮ সালে পেয়েছেন বিভাবতী বসু পুরস্কার। তার আগে ১৯৯৮ সালে চারুচন্দ্র সান্যালের স্মৃতিতে কলকাতার একটি সংস্থা তাঁকে সম্মানিত করেছিল। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব শান্তনু বসুর লেখা চিঠি বৃহস্পতিবারই তাঁর হাতে এসেছে।
‘বঙ্গদর্শন’-এর পক্ষ থেকে কবি-কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
