দেশভাগের যন্ত্রণা নিয়ে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হল ‘পার্টিশন স্টাডিজ’ – পড়ুন সারাদিনের বাছাই করা খবর

দিনযাপনে বাছাই চার

দেশভাগের যন্ত্রণা নিয়ে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে ‘পার্টিশন স্টাডিজ’, রাজ্যে এই প্রথম

এনআরসি, সিএএ নিয়ে উত্তাল গোটা দেশ। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় শুরু করল ‘পার্টিশন স্টাডিজ’। দেশভাগের ইতিহাস নিয়ে এই কোর্স শুরু হল। এই মুহূর্তে রাজ্যের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা করে ‘পার্টিশন স্টাডিজ’ নেই। সেই জায়গায় এই কোর্সটি ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পার্টিশন স্টাডিজের সিলেবাস

এই কোর্সে থাকছে সাদাত হাসান মান্টোর ‘টোবা টেক সিং’, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ফাইনাল সলিউশনস’ ছোটোগল্প। থাকছে উর্দু কবি ফৈয়াজ আহমেদ ফৈয়াজের কবিতার ইংরেজি অনুবাদ ‘ইয়োর লেনস, মাই কান্ট্রি’। পাশাপাশি থাকছে ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্র ‘সুবর্ণরেখা’, জীবনানন্দ দাশের ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার ইংরেজি অনুবাদ ‘আই শ্যাল রিটার্ন টু দিজ বেঙ্গল’, গুলজারের ‘মুঝে ওয়াগা সে টোবা টেক সিং ওয়ালে’ কবিতার ইংরেজি অনুবাদ। সিলেবাসে থাকবেন দিব্যেন্দু পালিত, অমিতাভ ঘোষ, ইন্তিজার হুসেন। প্রেজেন্টেশন টপিক্‌সে থাকছে- দেশভাগের পরিপ্রেক্ষিতে উপনিবেশবাদ ও জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও হিংসা, গৃহহীনতা ও নির্বাসন এবং দেশভাগের সময় মেয়েদের অবস্থা। এরকম নজিরবিহীন কোর্স চালুতে খুশি ছাত্রছাত্রীরা। সিবিসিএস পদ্ধতিতে ইংরেজির স্নাতক স্তরের ফাইনাল সেমেস্টারে ছয় ক্রেডিটের মধ্যে থাকবে এই কোর্স।

দূষণ রুখতে ১০ জায়গায় বসছে বায়ুশোধক যন্ত্র

কলকাতা এবং তার চারপাশের বাতাসে দূষণ ক্রমশ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মহানগর সংলগ্ন দক্ষিণ দমদম পুরসভা সিদ্ধান্ত নিল, সেই পুর এলাকার ১০টি জায়গায় বায়ুশোধক যন্ত্র বসানো হবে। দমদম স্টেশনের সামনে যেমন বায়ুশোধক বসবে, তেমনই নাগেরবাজার মোড়, হনুমান মন্দির, সুভাষনগরের মতো জায়গাতেও লাগানো হবে বায়ুশোধনের যন্ত্র। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের পরিমাপ করা দূষণ নিয়ন্ত্রকের সূচক গত বছরের শেষ দিনে ছিল ৪১২। নতুন বছরের প্রথম দিনে তা বেড়ে হয় ৫০৮। বায়ুদূষণের সূচক ১০০ পর্যন্ত হলে কোনো সমস্যা থাকে না। ৪০০ পেরিয়ে গেলে দূষণ বাড়াবাড়ি জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে বলে ধরা হয়। দক্ষিণ দমদম পুর এলাকায় বায়ুশোধনের যন্ত্রগুলি চালু হলে সন্নিহিত অঞ্চলে দূষণ বেশ খানিকটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

পুলিশ অফিসারের রক্তে জীবন ফিরে পেলেন প্রসূতি

ঘোলা থানার আইসি বিশ্ববন্ধু চট্টরাজের রক্তে প্রাণে বাঁচলেন টিটাগড়ের পূজা প্রসাদ। বুধবার সন্ধেয় টিটাগড় বাঁশবাগানের বাসিন্দা পূজা সন্তানসম্ভবা অবস্থায় ব্যারাকপুর বিএন বসু হাসপাতালে ভর্তি হন। বৃহস্পতিবার সকালে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর তাঁর শরীরে রক্তক্ষরণ বাড়তে থাকে। দুই ইউনিট ও নেগেটিভ রক্তের দরকার ছিল, কিন্তু হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে মজুত ছিল সেই গ্রুপের মাত্র এক ইউনিট রক্ত। তখন বিভিন্ন রক্তদান শিবির থেকে পাওয়া তালিকা বের করে ও নেগেটিভ গ্রুপের রক্তদাতাদের ফোন করতে শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রথম ১৪ জনকে ফোন করে সাড়া পাওয়া যায়নি। ১৫ নম্বরে ছিল আইসি বিশ্ববন্ধু চট্টরাজের নাম। তাঁকে ফোন করতেই সব কাজ ফেলে প্রসূতির জীবন বাঁচাতে ছুটে আসেন তিনি। এক ইউনিট রক্ত দান করেন। সেই রক্ত পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন বছর তেইশের পূজা।

“এত সুর আর এত গান” জনপ্রিয় করেছিল তাঁকে, আজ সুধীন দাশগুপ্তের মৃত্যুদিন

সুধীন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত ওরফে সুধীন দাশগুপ্ত। শুধুমাত্র সংগীতশিল্পী নন, বাদ্যযন্ত্রেও নিজের হাত পাকিয়েছিলেন ছোটোবেলা থেকে। সেতার, সরোদ, হারমোনিয়াম, ম্যান্ডোলিন, বেহালা, গিটার, পিকলু, পিয়ানো, এসরাজ আরও নানান বাদ্যযন্ত্রে দক্ষতা ছিল তাঁর। রয়্যাল স্কুল অব মিউজিক, লন্ডন থেকে সংগীতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। সুধীনবাবুকে পঞ্চাশের দশকে গীতা দত্ত এবং গুরু দত্ত তাঁদের মুম্বাইয়ের প্রোডাকশন হাউসে যোগদান করবার জন্য আমন্ত্রণ জানান। সেই সময় সুধীনবাবু একটি গান লিখেছিলেন, “এত সুর আর এত গান”। পরবর্তীকালে যে গান ভীষণভাবে জনপ্রিয় হয়। ১৯৫৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘স্বর্ণঝরা সূর্যরঙে’ এবং ‘ওই উজ্জ্বল দিন ডাকে স্বপ্ন রঙিন’। অল ইন্ডিয়া রেডিওতে স্টেশন মাস্টার হিসাবে কাজ করেছেন অনেক বছর। ১৯৮২ সালে আজকের দিনে ৫২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গীতিকার সুধীন দাশগুপ্ত।
Developed by DXDasia