
ক্লাসরুমের দরজায় সাহেব কে দেখে ব’লে উঠলেন, কামিং স্যার, কামিং গার্লিক স্যার, গার্লিক স্যার
তখন ইংরেজ আমল। গ্রামের স্কুল পরিদর্শন করতে আসবেন সাহেব ইন্সপেক্টর। পণ্ডিতমশায় পড়েছেন বেজায় ফাঁপরে। হেড মাস্টারমশায়ের নির্দেশ, সাহেব যখন আসবেন, তখন আবার তাঁকেই অভ্যর্থনা করতে হবে। এদিকে পণ্ডিতমশায়ের ইংরেজিটা একেবারেই আসে না। তো কী আর করা, হেড মাস্টার যখন বলছেন। স্কুলের লাইব্রেরি থেকে বাংলা থেকে ইংরেজি অভিধান তুলে নিয়ে গিয়ে স্বগৃহে ব’সে কঠিন সাধনা শুরু করলেন তিনি।
নির্ধারিত দিনে সাহেব এসে পড়লেন। পণ্ডিতমশায় মুখে একগাল হাসি নিয়ে প্রস্তুত। ক্লাসরুমের দরজায় সাহেব কে দেখে ব’লে উঠলেন, কামিং স্যার, কামিং গার্লিক স্যার, গার্লিক স্যার। সাহেব তো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে একসা। আসলে হয়েছিল কি, পণ্ডিতমশায়ের অভিধানটিতে গার্লিকের মানে রসুনই ছিল, কেবল ‘র’-এর পুটকিটা পড়েনি। ফলে পণ্ডিত মশায়ের জ্ঞানে রসুন মানে বসুন। তো আবার পণ্ডিত মশায় ব’লে উঠলেন, কামিং স্যার, কামিং গার্লিক স্যার, গার্লিক স্যার। সাহেব ঘরে ঢোকেনও না উল্টে ফ্যালফ্যাল ক’রে পণ্ডিতমশায়ের মুখের দিকে চেয়ে রইলেন। পণ্ডিত মশায় আর থাকতে পারলেন না। বলে উঠলেন, আমি বারবার আপনাকে গার্লিক করতে বলছি, তাও গার্লিক করছেন না! এদিকে ‘বারবার’ মানে নাপিত। ইন্সপেক্টর তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন, ইউ ড্যাম নেটিভ, কল মি বারবার! ইউ ড্যাম! পণ্ডিতমশায় কি বুঝলেন বোঝা দায়, তবে এটা বুঝলেন ‘ড্যাম’ শব্দটির দ্বারা সাহেব কিছু একটা বোঝাতে চাইছেন। তিনিই বা নিরুত্তর থাকবেন কেন। সপাটে ব’লে উঠলেন, শোনো সাহেব, ড্যাম কথার মানে যদি ভালো হয়, তাহলে আমি ড্যাম, আমার বৌ ড্যাম, বাবা ড্যাম, ছেলে-পুলে সব্বাই ড্যাম। আর ড্যামের মানে যদি খারাপ হয়, তোমার দাদু ড্যাম, ঠাকুরদা ড্যাম, তোমার চৌদ্দগুষ্টি ড্যাম, আর তুমি তো ড্যাম বটেই, তুমি হলে ড্যাম ড্যা ড্যাম ড্যাডামড্যাম।
