সরকারি খবর যাচ্ছে জেলে, নোটিস তামিলনাড়ুর মন্ত্রীদের
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ই পালানিস্বামী ঠিক যেন ভরতের মতোই সিংহাসনে শশীকলার পাদুকা রেখে রাজকার্য চালাচ্ছেন। জেলে ঘুষ দিয়ে ভালো খাবার দাবার জোগার করার তর্কের রেশ না মিটতেই, ফের বিতর্কে তামিল নেত্রী শশীকলা। এবার অভিযোগ, জেলে বসে সরকার পরিচালনা করছেন তিনি। আর এআইডিএমকে সরকারের বেশ কয়েক জন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা মন্ত্রগুপ্তির শপথ ভেঙে সরকারের গোপন বিষয় নিয়ে এক জন জেলবন্দির সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালাচ্ছেন।শশিকলা শিবিরের বিরুদ্ধে সম্প্রতি আদালতে একটি পিটিশন দায়ের করেন টি আনালাগন। তিনি পনিরসেলভম শিবিরের সদস্য। আর শশিকলাকে তোয়াজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ই পালানিস্বামী। হাজতবাসী এআইএডিএমকে নেত্রীর সঙ্গে প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করায় তাঁকে নোটিস ধরাল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। নোটিস পৌঁছেছে রাজ্যের আরও ৪ জন মন্ত্রীর কাছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অসংবিধানিক কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। নোটিসে বলা হয়েছে, ‘দায়িত্ব হাতে নেওয়ার সময় প্রশাসনিক খুঁটিনাটি গোপন রাখার শপথ নিয়েছিলেন মন্ত্রীরা। কিন্তু আদৌ তা পালন করা হচ্ছে না। আইন অমান্য করে শশিকলার সঙ্গে দেখা করছেন রাজ্যের মন্ত্রীরা। বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ চাইছেন। আশ্চর্যের বিষয় যে মুখ্যমন্ত্রী ই পালানিস্বামীসব দেখেও নীরব’।
পনিরসেলভম শিবিরের সদস্য টি আনালাগন তাঁর পিটিশনে লেখেন, ‘দুর্নীতি মামলায় হাজতবাস হয়েছে শশীকলার। কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে জেলে বসেই সরকার চালাচ্ছেন তিনি। কোনওরকম প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে হলেই তাঁর কাছে ছুটে যাচ্ছেন তামিলনাড়ুর মন্ত্রী, আমলারা।’ বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল জেলে শশীকলার থেকে পরামর্শ নিতে গিয়েছিলেন রাজ্যের বনদপ্তর মন্ত্রী ডিনডিগুল সি শ্রীনিবাসন, স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী কেএ সেনগোট্টাইয়া, সমবায় মন্ত্রী সেল্লুর রাজু এবং খাদ্যমন্ত্রী আরকে কামারাজ। ই পালানিস্বামীকে নীরব দর্শক বলে উল্লেখ করেছেন টি আনালাগন। তাঁর আইনজীবী আনন্দ মুরুগান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘শশিকলার সঙ্গে দেখা করে শপথ ভেঙেছেন রাজ্যের মন্ত্রীরা। সবকিছু জেনেও বাধা দেননি মুখ্যমন্ত্রী। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওঁদের পদচ্যুত করা হোক।’
কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত শশিকলার ৪ বছরের জেল হেফাজত হয়েছে। বর্তমানে বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল জেলে রয়েছেন তিনি।
