
২৫ মে ১৯৬৭, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শহিদ হয়েছিলেন ধনেশ্বরী সিংহ। স্মৃতিচারণায় তাঁর ছেলে পবন সিংহ
১৯৬৭ সালের ২৫ মে নকশালবাড়ির বেঙ্গাই জোতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যান আট মহিলা, এক যুবক ও দুই শিশু। সেই মহিলাদেরই একজন, ধনেশ্বরী দেবীর ছেলে পবন সিংহ। আন্দোলনের সময় তাঁর বয়স ছিল ২৫ বছর। পবনের বাবা প্রহ্লাদ সিংহও যোগ দিয়েছিলেন আন্দোলনে। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বর্তমানে পঁচাত্তর বছরের বৃদ্ধ পবন বলেন, ‘আমরা কৃষিকাজ করতাম। কিন্তু সকলে বিদ্রোহে সামিল হই। লক্ষ্য ছিল, কৃষক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। জমিদার বা পুঁজিবাদকে ধ্বংস করা। নকশাল নেতা চারু মজুমদারের আহ্বানে আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে নেমেছিলাম। আমরা বিশ্বাস করতাম সমাজতন্ত্রে। আজও বিশ্বাস করি, সমাজতন্ত্র একদিন আসবে।’
১৯৬৭ সালে আন্দোলনের সময় পবন সিংহের পঞ্চাশ বিঘা জমি ছিল চাষবাসের জন্য। আজ তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ বিঘায়। ভোটার কার্ড থাকলেও ভোট দেন না পবন। তাঁর মতে, ‘ভোট দিয়ে সমাজতন্ত্র আসবে না। সামন্তবাদ, পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ আর আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে লড়াই চালাতে হবে।’
নকশালপন্থীদের মধ্যে বিভিন্ন মতভেদ দেখা দেওয়ায়, আজ শ্রমিক কৃষক সংগ্রামী মঞ্চের মাধ্যমেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন পবনবাবু। তদ্বির করেননি বার্ধক্যভাতার জন্য। আর্থিক সমস্যা থাকলেও বিপিএল তালিকায় নাম লেখাননি পরিবারের কেউই। গ্রামে গ্রামে কমিটি গড়ে লড়তে হবে; নইলে আজ লড়াইয়ের পর তাঁর মতো জমি হারাতে হবে আরও অনেক কৃষককে – বৃদ্ধের গলায় এখনও শোনা যায় আহ্বান।
