
ওসমানদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ
শীতের শুনশান রাতে হঠাৎ চলন্ত ট্রেনে ধোঁয়া আর ফুলকি দেখতে পেলেন সুপারভাইজার। রেল কর্তৃপক্ষকে জানানোর পাশাপাশি তিনি বেগতিক দেখে স্থানীয় সমাজসেবী ওসমান গণিকেও খবর দিলেন। ওসমান ও তাঁর বন্ধুদের তৎপরতায় রক্ষা পেল সেই ট্রেন।
মুর্শিদাবাদের কৃষ্ণপুর থেকে পুড়ে যাওয়া ট্রেনগুলি রানাঘাটের কারশেডে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে ছিলেন সুপারভাইজার অরিন্দম দেব। বৃহস্পতিবার রাতে একটি ট্রেন বেলডাঙা ছেড়ে পলাশির দিকে যাচ্ছে, তখন পিছনের কামরায় আগুনের ফুলকি আর ধোঁয়া বেরোতে দেখেন তিনি। ট্রেনের আধপোড়া রবার, ফোমের মতো কিছু দাহ্য পদার্থ চাকায় লেগে গিয়েছিল। সেই ঘর্ষণেই জ্বলে ওঠে আগুন। তৎক্ষণাৎ রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সুপারভাইজার অরিন্দম।
পলাশির সমাজসেবী ও রক্তদান আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ওসমান গণি খানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় আছে। তাঁকেও অরিন্দম ফোনে ডেকে নেন। অনুরোধে করেন, কয়েকটি বালির বস্তা নিয়ে পলাশি স্টেশনে পৌঁছে যেতে। শীতের রাতে ঘুমের আহ্বান উপেক্ষা করে ট্রেন ঢোকার আগেই তিন বন্ধুকে নিয়ে স্টেশনে চলে আসেন ওসমান। ৮টি বালির বস্তা নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা। রেলের কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। অবশেষে আগুন আয়ত্তে আসে। ট্রেনে ১২টি অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ছিল। কিন্তু, আগুন নেভাতে বেশি কার্যকরী ছিল বালির বস্তাগুলিই।
ওসমান ও তাঁর বন্ধুদের ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। উপস্থিত বুদ্ধি ও তৎপরতার জন্য সুপারভাইজার অরিন্দম দেবের হাতে শনিবার বিশেষ শংসাপত্র তুলে দেন রানাঘাটের সিনিয়র সেকশনার ইঞ্জিনিয়ার ইনচার্জ স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়।
ছবিসূত্র-ফেসবুক
