
বৃষ্টিস্নাত শহরে ঘোর বুনল ‘তরঙ্গিণী’
গণেশবন্দনার পর একে একে বটু, হংসধ্বনি, বজ্রকান্তি, অর্ধনারীশ্বর, দুর্গা, শিব, ললিতবঙ্গ। সারাদিনের উত্তাপ ধুয়ে তখন শহরে বৃষ্টি নেমেছে। আর, দক্ষিণ কলকাতার এক বিখ্যাত মঞ্চ তখন ধুয়ে যাচ্ছে তাল-মুদ্রার মূর্ছনায়। শস্ত্রীয় নৃত্য-বিভঙ্গে নানা জাদু-মুহূর্ত তৈরি হচ্ছে। তাকে অসামান্য সঙ্গত করছে আবহ ও সঙ্গীত। ভারতীয় সাংস্কৃতিক সম্বন্ধ পরিষদ(আইসিসিআর) এবং ময়ূর ললিত একাডেমির যৌথ উদ্যোগে রবিবার এমনই সন্ধ্যা উপহার পেল কলকাতাবাসী।

ওড়িশি ঘরানার শিল্পীদের মধ্যে একটি বিশিষ্ট নাম দেবমিত্রা সেনগুপ্ত। ময়ূর ললিত একাডেমির তিনিই প্রতিষ্ঠাত্রী। তাঁরই নির্দেশনাতে মঞ্চস্থ হল ‘তরঙ্গিণী’। নিখাদ ওড়িশি নৃত্যঘরানার একটি অসামান্য আলেখ্য। অংশগ্রহণ করেছিলেন দেবমিত্রা সেনগুপ্ত স্বয়ং। সঙ্গে ময়ূর ললিত একাডেমির ছাত্রীরা।

‘তরঙ্গিণী’-র গোটা শরীর জুড়ে ওড়িশির মণি-মুক্তো-মোহর গাঁথা। সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ভারতীয় স্থাপত্য, পুরাণ, ইতিহাসের আবহ। এই আলেখ্যতে তাই প্রাণহীন মূর্তিরাও জীবন্ত চরিত্র হয়ে ওঠে। সেই মূর্তি হতে পারে অর্ধনারীশ্বরের, হতে পারে একশো আট হাতের শিবমূর্তি। মূর্তির অন্তরালের পুরাণকে উদযাপন করেন দেবমিত্রা ও তাঁর যোগ্য ছাত্রীরা। আর সেই উদযাপনের মাধ্যম হয়ে ওঠে ওড়িশি। প্রবাদপ্রতিম কেলুচরণ মহাপাত্রর ছাত্রী দেবমিত্রা সেনগুপ্ত বড়ো সুন্দর বুনেছেন এই গোটা ভাবনাটিকেই।

সেই বুননকেই সার্থকতম করে তুলেছে ময়ূর ললিত একাডেমির ছাত্রীরা।

