
আমি নিয়মটা নিয়ে লিখেছি; তিনি ব্যতিক্রমটা নিয়ে
কলকাতার দুর্গাপুজোর তথাকথিত শিল্প নিয়ে আমার লেখাটার পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গদর্শনে পার্থ দাশগুপ্ত মহাশয়ের বক্তব্য পড়লাম। এই বিষয়ে তাঁর মতামত জানলাম। তবে তার জন্য আমার মতের বদল করার কোনও কারণ দেখছি না। ‘শিল্প’ বলে যা তৈরির চেষ্টা করা হয়, তার নান্দনিক মূল্য কতটা তা নিয়ে দুজন ব্যক্তির দুরকম মত থাকা খুব স্বাভাবিক। এই জন্যই তো যে ছবি একজন কোটি টাকায় সমাদর করে কিনে নেন সেই একই ছবি অন্য একজন বিনে পয়সায় পেলেও ঘরে টাঙান না। একটা বিষয়ে পার্থবাবুর সঙ্গে আমি একমত। আমার লেখাটা সাধারণভাবে পুজো নিয়ে। ব্যতিক্রমী কিছু ক্ষেত্রে প্রতিমা, মণ্ডপ, আলো ইত্যাদি সব মিলিয়ে নিশ্চয়ই একটা শোভন, সুন্দর, সামঞ্জস্যপূর্ণ স্থাপনা গড়ে ওঠে। পার্থবাবু প্রধানত তার উপরই আলোকপাত করেছেন। আমি এভাবে দেখছি যে, আমি নিয়মটা নিয়ে লিখেছি; তিনি ব্যতিক্রমটা নিয়ে। Exception proves the rule.
আরও পড়ুন
পুজোশিল্প – পার্থ দাশগুপ্ত
পার্থবাবুর লেখায় আমার সম্পর্কে ব্যক্তিগত শ্লেষ যেটা আছে সেটাকে আমি উপেক্ষা করছি। তিনি বিষয়টির মধ্যে নিবিড়ভাবে রয়েছেন; আমি সখের চর্চা করছি। তিনি আমাকে অনধিকারী ভাবতেই পারেন। তাঁর প্রতিক্রিয়া তীব্র হতেই পারে। আবেগের কোনও জবাব হয় না। তাই এই বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। তবে যেহেতু ১, ২, ৩ ইত্যাদি করে তিনি কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রশ্নও করেছেন তাই সেগুলোর থেকে Rational অংশটুকুর আমি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি:
(১) বিনয়ের প্রয়োজন এই জন্য যে আমার ৩০ বছরের সাংবাদিকতা রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রশাসন পরিচালনা, আইন–প্রণয়ণ, বিচারব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি নিয়ে। শিল্প বা পুজোর শিল্প নিয়ে আমি আগে কখনও লিখিনি।
(২) সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতই আমি প্রকাশ করেছি লেখায়। এটা এই সময়ে এবং এই দেশে একটু অদ্ভুত লাগতে পারে কারও কারও কাছে যে, আমি একলা; আমার সামনে, পিছনে, ডাইনে, বাঁয়ে, উপরে, নীচে কোত্থাও কেউ নেই। কারও পতাকা আমি বইছি না, কোনও গোষ্ঠী বা মতবাদের প্রতিনিধিত্ব আমি করছি না, কোনও পুজোর সঙ্গে কস্মিনকালেও আমি কোনওভাবে যুক্ত ছিলাম না, হবও না।
(৩) যা বলার শুরুতেই বলা হয়ে গেছে।
(৪) পার্থবাবু যে বিশেষ পুজোটার কথা উল্লেখ করেছেন তার কথা আমি শুনেছি। কিন্তু এই বছর বা অতীতে কোনও দিনই যাইনি। নির্দিষ্ট কোনও পুজো নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য আগের লেখাতেও করিনি, এখনও করছি না। আমার কোনও কিছুর উপরই রাগ নেই। বিশেষ অনুরাগও নেই। অন্য কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনটাকে পুরস্কার দিয়েছে বা কোনটাকে ভাল বলেছে সেগুলো আমার কাছে কিছু অপ্রয়োজনীয় তথ্য মাত্র। কোনও বিষয়ে মত প্রকাশ করলেই তার সম্পর্কে রাগ, বিদ্বেষ, ভালবাসা, ভক্তি, ভয়, ঘৃণা ইত্যাদি জাতীয় কোনও অনুভূতি থাকা বাধ্যতামূলক বলে আমি মনে করি না। মৃত্যুকে আমি খুব খারাপ বলে মনে করি; কিন্তু তার সম্পর্কে আমার উপরের কোনও অনুভূতিই নেই। পুজোর তথাকথিত শিল্প সম্পর্কেও তেমন আমার একটা মত আছে, যা আমি প্রকাশ করেছি; কিন্তু ওই রকম বিশেষ কোনও অনুভূতি নেই।
(৫) কিছু বলার নেই। কারণ এটা কোনও প্রশ্ন নয়, তাঁর মত।
(৬) কিছু বলার নেই। কারণ এটা কোনও প্রশ্ন নয়, তাঁর মত।
(৭) কিছু বলার নেই। কারণ এটা কোনও প্রশ্ন নয়, তাঁর মত।
পুজোর তথাকথিত শিল্প নিয়ে আমার যে মতটা ছিল, সেটা পার্থবাবুর লেখা পড়ার পরেও একই আছে। তবে তাঁর মতামত নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র কিছু বলার নেই; এমনকি কোনও মতও নেই। আশা করি মত প্রকাশের স্বাধীনতার মতোই কোনও বিষয়ে মতামত না থাকার স্বাধীনতাও স্বীকৃত
