
‘জার্নি ফর টাইগার’-এ বেরিয়ে পড়েছেন রথীন্দ্রনাথ-গীতাঞ্জলি
বিয়ের পর নতুন ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে আম-মানুষ। আর, সল্টলেকের রথীন্দ্রনাথ দাস এবং গীতাঞ্জলি দাশগুপ্ত মিলে ঠিক করলেন বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন পথে। শুধু পথ নয়, বন থেকে বনে। উদ্দেশ্য, নানা টাইগার রিজার্ভ ফরেস্টে ঘুরে ঘুরে বনপ্রাণ সংরক্ষণ নিয়ে প্রচার চালানো। শুধু দেশে নয়, ভিয়েতনাম, চিন, রাশিয়ার মতো ১৩টি দেশেও পাড়ি জমাবেন তাঁরা। রথীন্দ্রনাথ-গীতাঞ্জলি ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকেই বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন পথে। আপাতত বক্সা ছুঁয়ে তাঁরা ছুট লাগাবেন আসামের পথে। এই বাইক-যাত্রার নাম তাঁরা দিয়েছেন ‘জার্নি ফর টাইগার’।

অনেক কিছু শুনেই আমাদের বিস্ময় জাগে। মনে হয়, এমন কেন সত্যি হয় না আহা। এই ঘটনা কিন্তু ঘোরতর সত্যি। অসমে মানস অভয়ারণ্যে একটি প্রোজেক্টে কাজ করতেন রথীন্দ্রনাথ। বন্যপ্রাণের প্রতি ভালোবাসা আর অ্যাডভেঞ্চারের টানে সেই চাকরি ছেড়ে দেন। ২০১৭ সালে ফেসবুকেই আলাপ গীতাঞ্জলির সঙ্গে। আলাপ ক্রমশ ঘন হয় প্রেমে। বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রথীন্দ্রনাথ নাকি শর্ত দিয়েছিলেন আটপৌরে ঘর-সংসার নয়, তাঁর সঙ্গে ঘুরতে হবে বনে-বনে। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের কাজে। গীতাঞ্জলি রাজি হওয়ার শুরু হয় এই মধুর দাম্পত্য। প্রথমে বাইক নিয়ে দুজনে বেরিয়ে পড়েন রাজস্থানে। তারপরে ঠিক করেন, নানা টাইগার রিজার্ভ ফরেস্টে ঘোরার জন্য আশি হাজার কিমি পাড়ি দেবেন বাইকেই। নেহাত ভ্রমণ নয়, বনের আশেপাশের স্কুলগুলিতে বাঘ ও বন্যপ্রাণ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে শিবিরও করবেন দুজন। আপাতত পরিকল্পনা রয়েছে দেশজুড়ে এমন ৫০০টি স্কুলে শিবির করার।
দেশের বিভিন্ন টাইগার রিজার্ভ ফরেস্টের পাশাপাশি ভিয়েতনাম, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ, চিন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, লাওস, রাশিয়ার মতো দেশেও যাবেন এই নবদম্পতি। সব মিলিয়ে দু’বছরের প্রচার কর্মসূচি। তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে এগিয়ে এসেছে কয়েকটি সংস্থা। নিখরচায় বাইক সারানোর ব্যবস্থাও হয়েছে। বাকিটা জমানো পুঁজি থেকেই। এহেন বাঁধনছাড়া দাম্পত্য চুটিয়ে উপভোগ করছেন দুজনেই। দীর্ঘ যাত্রার পথে যেখানে মাথা গোঁজার ঠাঁই মিলবে, সেটাই তাঁদের সেদিনের ঘর। এভাবেও বেঁচে থাকা যায়, শেখাচ্ছেন রথীন্দ্রনাথ আর গীতাঞ্জলি।
