সেনা জওয়ান না বাড়িয়ে এবার জোর প্রযুক্তিতে

প্রায় ৫৭ হাজার জওয়ানকে পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্ত

সেনা বাহিনীতে সংখ্যা আর না বাড়িয়ে প্রযুক্তিতে আরও বেশি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। গোরু মোষের খামার,  সেনার ডাক পরিষেবা, সিগন্যালিং ব্যবস্থার সঙ্গে জুড়ে থাকা বাহিনীর কোথাও সবটাই, কোথাও অনেকটাই আর আগের মতো প্রয়োজনীয় নয়। কারণ প্রযুক্তির উন্নতি। সেনার এই সব ‘উইং’ গুলি  হয় বন্ধ করে দেওয়া হবে, না হলে অন্য কোনও শাখার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৫৭ হাজার সেনা অফিসার ও জওয়ানকে অপ্রয়োজনীয় শাখা থেকে তুলে নিয়ে নতুন জায়গায় প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহার করা হবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অরুণ জেটলির দাবি করেছেন, 'ভারতীয় সেনা বাহিনীতে স্বাধীনতার পরে প্রথম  এই ধরনের সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া হল।' গত কয়েক মাসে পাকিস্তানের পাশাপাশি চিনের সেনার সঙ্গেও ভারতীয় সেনার সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই সীমান্তে আরও সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেটলি অবশ্য দাবি করেছেন, ডোকলাম বা অন্য কোনও ঘটনার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নেই। প্রক্রিয়া আগেই শুরু হয়েছিল। প্রযুক্তির আধুনিকীকরণের ফলে সব দেশই এখন সেনাবাহিনীতে সংখ্যা কমিয়ে প্রযুক্তিতে জোর দিচ্ছে। সম্ভবত সেই পথেই হাঁটতে শুরু করল ভারতও। ৩৮ হাজার অফিসার ও ১১.৩৮ লক্ষ জওয়ান নিয়ে ভারতীয় সেনা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বাহিনী। বাহিনীকে ঢেলে সাজতে গত মার্চে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডি বি শেখতকরের নেতৃত্বে একটি কমিটি তৈরি হয়।  সেনাকে আরও দক্ষ করে তুলতে ৯৯ দফা সুপারিশ করে ওই কমিটি। সেই সুপারিশে প্রায় ৬৬% সরকার মেনে নিয়েছে। তারই ফলশ্রুতি এই সব সংস্কার। তবে এই কাজ শেষ হতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে। 

Developed by DXDasia