
থাকবে অত্যাধুনিক জিম, রেস্তোরাঁ, সুইপিং পুলের ব্যবস্থা
বাঙালি চিরকালই ভ্রমণপিপাসু। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকদের চাহিদাও বদলায়। আগে সরকারি লজে ঠিকঠাক থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত থাকলেই খুশি হতেন মানুষ। এখন পর্যটকরা এর পাশাপাশি জিম, রেস্তোরাঁ, সুইপিং পুলেরও খোঁজ করেন। এঁদের কথা মাথায় রেখেই সরকারি লজগুলিকে নতুন করে সাজাতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগম।
প্রথম ধাপে ২৫টি লজের আমূল সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়েছে নিগম। ঠিক হয়েছে ৫০টি ডাবল বেডরুম, একসঙ্গে ৩০ জন বসতে পারার মতো বার, ১০০ আসনের কনফারেন্স রুম, ভিআইপি স্যুট, সি থ্রু কিচেন লাগোয়া রেস্তোরাঁ, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, লাইব্রেরি, ট্রেনার সহ জিমের মতো নানান অত্যাধুনিক ব্যবস্থা থাকবে লজগুলিতে। প্রাথমিক খরচ ১০০ কোটি টাকা ধরে নিয়ে বরাত দেওয়া হচ্ছে পেশাদার আর্কিটেক্ট প্রতিষ্ঠানকে। ডুয়ার্সের টিলাবাড়ি ও মূর্তি ট্যুরিস্ট লজে বানানো হচ্ছে সুইমিং পুল। লিলিপুল তৈরি হবেদিঘার লারিকা এবং শিলিগুলির মৈনাক লজে। লজের রেস্তোরাঁতে পাওয়া যাবে সাউথ ইন্ডিয়ান, চাইনিজ, কন্টিনেন্টাল – নানা ধরনের খাবার। সব মিলিয়ে যে কোনো থ্রি স্টার হোটেলকে টেক্কা দেবে এই লজগুলি। স্বাভাবিকভাবেই ভ্রমণপিপাসু মানুষরা স্বাগত জানিয়েছেন এই উদ্যোগকে। পাশাপাশি, দেশ-বিদেশের পর্যটকরা রাজ্যের ট্যুরিস্ট লজগুলিতে আনাগোনা বাড়ালে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতেও তার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে বলে মনে করছেন নাগরিকরা।
ইতিমধ্যেই লজের সাধারণ কর্মী ও রাঁধুনি মিলিয়ে ৪৪০ জনকে কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগম। জানা গেছে, নতুন বন্দোবস্ত হলে সরকারি লজগুলির ভাড়া বাড়বে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের হাতের নাগালেই থাকবে।
