বিমান দুর্ঘটনাতেই মৃত্যু নেতাজির, জানাল মোদি সরকার

বাজপেয়ী আমলের মুখার্জি কমিশনের দাবি খারিজ

বাজপেয়ীর আমলে গঠিত মুখার্জি কমিশনের রিপোর্ট কার্যত খারিজ করলেন নরেন্দ্র মোদী। তথ্য জানার অধিকার আইনে করা এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়ে দিল, ১৯৪৫-এর ১৮ আগস্ট তাইহোকুতে বিমান দুর্ঘটনার ফলেই মারা গিয়েছিলেন নেতাজি।

জবাবে বলা হয়েছে, ‘শাহনওয়াজ কমিশন, খোসলা কমিশন ও মুখার্জি কমিশনের তদন্ত বিশ্লেষণ করে সরকার এই সিদ্ধান্তে এসেছে যে, নেতাজি ১৯৪৫ সালে বিমান দুর্ঘটনাতেই মারা গিয়েছিলেন’।  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই কথার বিরোধিতা করেন নেতাজির উত্তরসূরি ও রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি চন্দ্র বোস। কোনও প্রমাণ ছাড়াই নেতাজির মৃত্যু-সংক্রান্ত সরকারের এই সিদ্ধান্তে তিনি ক্ষুব্ধ।

প্রসঙ্গত, অটলবিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বিচারপতি মনোজকুমার মুখোপাধ্যায়ের অধীন ‘মুখার্জি কমিশন’-এর সিদ্ধান্ত ছিল, বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাননি নেতাজি। তবে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণও জানাতে পারেনি তারা। বাজপেয়ীর আমলে কমিশন গঠিত হলেও, তার রিপোর্ট জমা পড়েছিল প্রথম ইউপিএ সরকারের আমলে। মনমোহন সিং সরকার ওই রিপোর্ট গ্রহণ করেনি। পরে ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় এলে চন্দ্র বোস সহ বেশ কয়েক জন নেতাজি অনুরাগী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে মুখার্জি কমিশনের রিপোর্ট গ্রহণ করতে অনুরোধ জানান। সেই সময় সরকারের পক্ষ থেকে মেল করে তাঁদের জানানো হয়েছিল, বিষয়টি বিবেচনেধীন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বর্তমান ঘোষণায় এটাই পরিষ্কার হল, নেতাজি ‘মৃত্যু’ বিষয়ে কংগ্রেসের সংগে বিজেপির ভাবনার কোনও ফারাক নেই। কলকাতায় নেতাজি গবেষক পূরবী রায় এ প্রসঙ্গে বলেছেন, সরকারের এই ঘোষণা দুর্ভাগ্যজনক।

নেতাজির মৃত্যু-সম্পর্কিত প্রশ্নটি গত মার্চ মাসে দাখিল করেছিলেন সায়ক সেন। তিনিও বিস্মিত সরকারের এমন জবাবে। এটাই যদি সরকারের সিদ্ধান্ত হয়, সংশ্লিষ্ট ফাইলগুলি প্রকাশে আনা হচ্ছে না কেন, প্রশ্ন তাঁর।

Developed by DXDasia