
প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলিকে সংরক্ষণ করা ও পর্যটকদের সেইসব স্থানে টেনে আনাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য
নবদ্বীপ ও কোচবিহার-কে হেরিটেজ স্থান হিসেবে ঘোষণা করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্য সচিবকে নির্দেশ নিয়েছেন এ-ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। কোনও স্থানকে ঐতিহাসিক দিক দিয়ে বিচার করে হেরিটেজ ঘোষণা করতে প্রয়োজনীয় পথও অনুসরণ করছে রাজ্যের হেরিটেজ কমিশন।
প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলিকে সংরক্ষণ করা ও পর্যটকদের সেইসব স্থানে টেনে আনাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। ঐতিহাসিক সৌধ ও বাড়িগুলির সংস্কারের কাজে জোর দেওয়া হবে। এই ব্যাপারে নবদ্বীপের ক্ষেত্রে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিবপুর আইআইইএসটি ও কোচবিহারের ক্ষেত্রে খড়গপুর আইআইটি-র ইঞ্জিনিয়ারদের। পাশাপাশি, নবদ্বীপ ও কোচবিহারে একটি করে মিউজিয়মও গড়ে তোলা হবে। মিউজিয়মদুটিও ঘোষিত হবে ‘হেরিটেজ’ হিসেবে।
নদীয়া জেলার নবদ্বীপ শ্রী চৈতন্যদেবের জন্মস্থান। দর্শনশাস্ত্রের অসংখ্য পণ্ডিতের বাসস্থল হওয়ার জন্য নবদ্বীপ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পরিচিত ছিল ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ হিসেবে। আজও এখানকার স্মৃতিসৌধগুলি মধ্যযুগের ভক্তি আন্দোলনের ঐতিহ্য বহন করে। অন্যদিকে কোচবিহার ঊনবিংশ শতাব্দীর কয়েকটি পরিকল্পিত শহরের একটি। উত্তরবঙ্গের এই স্থাপত্যে মোড়া ঊনবিংশ শতকের শহরে এক প্রগতিশীল রাজা এক জার্মান স্থপতিকে নিযুক্ত করেছিলেন এই শহরের পরিকল্পনা করতে। তাই বাড়িগুলি তৈরি হয়েছে জার্মান স্থপতির পরিকল্পনা অনুযায়ী। এই অঞ্চলের মানুষের অনেক বছরের দাবি ছিল এই শহরকে হেরিটেজ ঘোষণা করা। এতদিনে তাঁদের সেই ইচ্ছা বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
