বিরোধী বিধায়কদের গ্রেফতার না করলে কী হত?

নবান্ন অভিযানে ইট লাঠি কাঁদানে-গ্যাস জলকামান

সোমবার বিরোধী বামদলগুলির নবান্ন অভিযানে ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোলনকারীরা এগোতে গেলে সংঘর্ষ বাধে পুলিশের সঙ্গে। লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, জলকামান, ইঁট, পাল্টা ইঁটে আন্দোলনকারী এবং পুলিশের অনেকেই আহত হয়েছেন। পিছিয়ে পড়া সব দেশেই এমনই রীতি। ১১১। রাস্তার রাজনীতিই দিক নির্দেশক। আগে হত মহাকরণ অভিযান, এখন নবান্ন অভিযান। ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় এসে অসংখ্য মহাকরণ অভিযান সামলে ১৭ বছরের মাথায় ১৯৯৩ সালে, এই মহাকরণ অভিযানেই গুলি চালিয়ে ১২ জনকে হত্যা করেছিল বামফ্রন্টের পুলিশ। পরিবর্তনের জমানায় বেশ কয়েকটা নবান্ন অভিযান হয়ে গেল। রক্তপাত হলেও এখনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে ক্রমেই পরিস্থিতি সেই দিকে যাচ্ছে। কারণ, এই বঙ্গের রাজনীতি দীর্ঘকাল ধরেই লাশ-নির্ভর।

১১টি বামপন্থী দল সোমবারের এই নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল পুরভোটে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে। বেশ কয়েক জন বাম বিধায়ক পুলিশের চোখ এড়িয়ে নবান্নের গেটে পৌঁছে গেলে পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। বিধায়করা নবান্নে যেতেই পারেন। তাঁদের সেই অধিকার আছে। বিধায়কদের গ্রেফতার না করলে কী-ই বা হত? বিশেষ করে বিধানসভা যখন চালু আছে। তাঁরা মোটেই কিছু ভাঙচুর করতেন বলে মনে হয় না। খুব বেশি হলে হয়তো কিছুক্ষণ অবস্থান করতেন। ক্ষতি কী তাতে? বিশেষ করে যখন মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে ছিলেন না। কিন্তু বঙ্গ রাজনীতিতে এমন চল নেই। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকেও একদা এর থেকেও খারাপ ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল মহাকরণের করিডোর থেকে। সঙ্গে ভেঙে ফেলা হয়েছিল প্রেস কর্নার।

সোমবারের নবান্ন আন্দোলন প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ওরা শেষ হয়ে গেছে তাই এই অভিযান। সিপিএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, ওরা ভয় পেয়েছে।এই দিনের সব থেকে খারাপ ব্যপার হল কর্তব্যরত সাংবাদিক এবং চিত্র সাংবাদিকদের উপর একাধিকবার পুলিশের লাঠি চার্জ এবং মারধর। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। কয়েকজনের আঘাত গুরুতর। 

Developed by DXDasia