নবনীতার ভালোবাসার বারান্দায় নিশ্চুপ পাঠকমহল

প্রয়াত প্রবাদপ্রতিম সাহিত্যিক নবনীতা দেবসেন

দীর্ঘদিনের অসুস্থতা। দীর্ঘদিনের লড়াই। আজ সন্ধে ৭-৩৫ নাগাদ তাঁর হিন্দুস্তান পার্কের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রবাদপ্রতিম সাহিত্যিক নবনীতা দেবসেন। দীর্ঘদিন ধরেই ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর অদম্য জেদ বাংলা সাহিত্যের পাঠককে শক্তি দিয়েছে, নতুন দিশা দিয়েছে। ‘রোববার’ পত্রিকার শেষ লেখাটিই লিখেছিলেন মৃত্যু নিয়ে। যেখানে বলেছিলেন, “যেসব মানুষ আমাকে একবারও চোখে দ্যাখেনি, দূর দূর গ্রাম থেকে ছুটে আসতে চাইছে একবার শেষ দ্যাখা দেখতে— আরে, এটাই শেষ দ্যাখা, তোমায় কে বলল? এই যে এত লম্বা জীবনটা কাটালুম, তার একটা যথাযথ সমাপন তো দরকার! পাঁজিপুঁথি দেখে, শুভ দিন, শুভ লগ্ন স্থির করে, স্বজনবান্ধবকে নেমতন্ন খাইয়ে তবে তো শুভযাত্রা!” 

এই আশ্চর্য কথাগুলি কী অবলীলায় লিখে গেলেন তিনি। কেউ কিচ্ছুটি টের পেল না। কী শান্ত সহজভাবে চুপটি করে চলে গেলেন। তাঁর ‘ভালোবাসার বারান্দা’য় ভিজেছি আমরা কম-বেশি প্রত্যেকেই। এই হার তো শরীরের। মনে প্রাণে সর্বোপরি বাংলা তথা ভারতীয় সাহিত্যে নবনীতা থেকে যাবেন অমোঘ উচ্চারণটি হয়ে।

পদ্মশ্রী, সাহিত্য অ্যাকাডেমি-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন নবনীতা। কবিতা আর গদ্য, উভয়ক্ষেত্রেই তিনি সিদ্ধহস্ত। এ ছাড়াও লিখেছেন ভ্রমণকাহিনি। দীর্ঘদিন ‘রামকথা’ নিয়ে কাজ করেছেন। সীতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তিনি রামকথার বিশ্লেষণ করেছেন। ‘চন্দ্রাবতী রামায়ণ’ তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। 

তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে আগামীকাল। বাইরের কোনো ব্যক্তিতে এখন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না তাঁর বাড়িতে। তাঁর প্রাক্তন স্বামী অমর্ত্য সেনের কাছে খবর যাওয়ায় নিশ্চুপ থেকেছেন তিনি৷ বহু স্মৃতি ঘিরে ধরেছে তাঁকে। এদিন শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ট্যুইট করে লেখেন, “বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ নবনীতা দেবসেনের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ। তিনি একাধিক পুরস্কার প্রাপক। অগণ্য ছাত্রছাত্রী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর অভাব বোধ করবেন। তাঁর পরিবার ও গুণমুগ্ধদের আমি সমবেদনা জানাচ্ছি”। পাবলিশার্স ও বুক সেলার্স গিল্ডের পক্ষ থেকে ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় ফেসবুকে লেখেন, “বুকের মধ্যে পুড়ে যাচ্ছে ব্যথায়…
নবনীতাদি চলে গেলেন না ফেরার দেশে।"

সাহিত্যিকের প্রতি বঙ্গদর্শনের শ্রদ্ধার্ঘ্য।
 

Developed by DXDasia