
সম্প্রীতির নজির গড়লেন আসানসোলের শাহিদ খান
বন্ধু ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন তাঁকে। চিকিৎসা করিয়েছিলেন মাসের পর মাস। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। বন্ধু মারা গেলে তাঁর দেহ নিজের কাঁধে বয়ে নিয়ে গেলেন শ্মশানেও। মুখে রামনাম। যিনি মারা গেলেন, তিনি হিন্দু। যিনি মৃতদেহ সৎকার করলেন, তিনি মুসলমান।
আজমেরের সুরেন্দ্র আগরওয়ালের থেকে আসানসোলের শাহিদ খান ২০ বছরের ছোটো। তাতে অবশ্য বন্ধুতে কোনো ভাটা পড়েনি। মুম্বাইতে দু’জনের আলাপ হয়েছিল। তারপর কাজের প্রয়োজনে দু’জন দু’দিকে চলে গেলেও যোগাযোগ ছিল আগের মতোই। সুরেন্দ্রর আত্মীয় পরিজন কেউ নেই। তিনি ওরাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে শাহিদ আসানসোলের সীতারামপুরে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন বন্ধুকে। শাহিদের স্ত্রী নিরামিষ রান্না করে দিতেন সুরেন্দ্রকে। সুরেন্দ্রর ঘরে থাকত বজরংবলী, সাঁইবাবার ছবি। চিকিৎসার জন্য তাঁকে দুর্গাপুর, কলকাতা ব্যাঙ্গালুরুতেও নিয়ে গিয়েছিলেন শাহিদ।
কিন্তু রোগ সারল না কিছুতেই। সাত মাস শাহিদের বাড়ি থেকে মারা গেলেন সুরেন্দ্র। সুরেন্দ্রর মৃত্যু হলে সম্পূর্ণ হিন্দু রীতি মেনেই শাহিদ বন্ধুর দেহ সৎকার করলেন। আসানসোল শহরের সীতারামপুর অঞ্চল এখন গর্বিত শাহিদ খানের জন্য।
(ছবি-প্রতীকী)
