
দিনযাপনে বাছাই করা খবর
তারাশঙ্করের কলকাতার বাসভবনে তৈরি হচ্ছে সংগ্রহশালা
কিংবদন্তি সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূমের লাভপুরে জন্মগ্রহণ করলেও জীবনের মাঝামাঝি পর্যায়ে অর্থাৎ ১৯৪০ সালে চলে আসেন কলকাতা। প্রথমে বাগবাজার তারপর ১৯৪১ সালে বরাহনগর অর্থাৎ টালা পার্ক এলাকায়। কলকাতার সেই টালা পার্কের বাসভবনে তৈরি করা হচ্ছে সংগ্রহশালা। উদ্যোগ নিয়েছে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ। এই সংগ্রহশালায় তারাশঙ্করের লেখা বই, চিঠি, ব্যবহার করা জিনিস রাখা থাকবে। দ্বিতল এই বাড়িটি প্রায় পাঁচ কাঠা জমির উপর তৈরি। সেটি পরিষদ হাতে পাওয়ার পর শুরু হয় সংস্কার এবং সংগ্রহশালা তৈরির কাজ। তারাশঙ্কর যে ঘরে বসে লিখতেন, সবার সঙ্গে দেখা করতেন, সেটিও সংস্কার করা চলছে। এই ঘরের দায়িত্ব নিয়েছে রাজ্য পূর্ত দপ্তর। এখানে বসে বই পড়ার সুযোগও থাকছে। দেখা যাবে সাহিত্যিকের বিভিন্ন পদক, যেমন জ্ঞানপীঠ, সাহিত্য আকাদেমি, রবীন্দ্র পুরষ্কার-সহ একাধিক সম্মান। কাজ প্রায় শেষের মুখে। শীঘ্রই খোলা হবে পাঠক ও দর্শকদের জন্য।

আজ মহাসমারোহে শুরু হল দ্বিতীয় কলকাতা জেলা বইমেলা
কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এরই মধ্যে মহানগরে শুরু হল আরেকটি জমজমাট বইমেলা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে গত বছর প্রথম যাত্রা শুরু করেছিল কলকাতা জেলা বইমেলা। এবার তা দ্বিতীয় বছরে পা দিল। আজ থেকে আগামী রবিবার পর্যন্ত পার্কসার্কাস ময়দানে এই মেলা চলবে। বইপ্রেমীরা এই ক’দিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধে ৮টা পর্যন্ত বইমেলায় যেতে পারেন, সংগ্রহ করতে পারেন পছন্দের বই। কলকাতা জেলা বই মেলার আয়োজন করেছে স্থানীয় গ্রন্থাগার কৃত্যক, কলকাতা। তত্ত্বাবধানে রয়েছে গ্রন্থাগার পরিষেবা অধিকার, পশ্চিমবঙ্গ এবং জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বই হল জ্ঞানের বাহন। বই কেনা ও পড়ার চর্চাকে রাজ্যের কোণে কোণে পৌঁছে দিতে পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদ্ধপরিকর। তাই, এখন জেলায় জেলায় বইমেলা আয়োজিত হচ্ছে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে।

দেশভাগ নিয়ে এবার ওয়েবসাইট চালু হল বাংলা ভাষায়
বাঙালির ইতিহাসে দগদগে ক্ষতের মতো বিরাজ করছে দেশভাগ। দুই বাংলা এখনও উদ্বাস্তু সমস্যায় জর্জরিত। দেশভাগ এবং মুক্তিযুদ্ধের নানা তথ্য, দুই বাংলার প্রান্তিক মানুষের স্মৃতিকথা, গবেষণা ইত্যাদি নিয়ে নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় চালু করল বেঙ্গল পার্টিশন রিপোসিটরি (www.bpr.cltcsnsou) নামের ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইটটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হয় শনিবার। আজ থেকে এই ওয়েবসাইটে নথিভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া চালু হচ্ছে। এই ডিজিটাল আর্কাইভটি নির্মাণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন দুই বাংলার প্রায় ৫০ জন পড়ুয়া এবং গবেষক। অশীতিপর বৃদ্ধবৃদ্ধাদের থেকে ইতিহাসের মৌখিক উপাদান সংগ্রহ করা, সেমিনার এবং কর্মশালার আয়োজন করা – ইত্যাদির মাধ্যমে আর্কাইভটিকে সমৃদ্ধ করে তোলা হয়েছে।

ক্যারাটে থেকে ঋতুস্রাব, মেয়েদের নতুন পাঠ দিচ্ছে মিমির ‘সুকন্যা’
তিনি অভিনেত্রী, সাংসদ। মেয়েদের জন্য তৈরি করেছেন নিজের সংগঠন ‘সুকন্যা’। তিনি মিমি চক্রবর্তী। সংগঠনের মূল উদ্যোগ হল ক্যারাটে থেকে ঋতুস্রাব, এই সবকিছুর পাঠ দেওয়া। মাসখানেক আগেই মিমির উদ্যোগে সংসদীয় এলাকায় আত্মরক্ষার পাঠ দেওয়ার জন্য মেয়েদের কিক বক্সিং, ক্যারাটে শেখানো শুরু হয়েছিল। এবার মেয়েদের স্বাস্থ্য এবং মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন অর্থাৎ ঋতুস্রাবকালীন পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নতুন উদ্যোগে সামিল হয়েছেন। এলাকায় বসানো হয়েছে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন। শুরু থেকেই যাতে মেয়েরা এই বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষা পায় তার জন্য স্কুলের ছাত্রীদের নিয়েই একটি প্রশিক্ষন শিবিরের আয়োজন করেছেন সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। ঋতুস্রাব থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে যাতে একটিও মৃত্যু না হয়, সে বিষয়ে খতিয়ে দেখছেন তিনি এবং তাঁর সংগঠন।
