
‘পথের পাঁচালি’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’ থেকে ‘অন্তহীন’, ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’
বাংলা চলচ্চিত্রে বৃষ্টিকে ব্যবহার করা হয়েছে নানাভাবে। পরিচালকের নিজস্ব দক্ষতায় সেই বৃষ্টি স্থাপন করেছে চরিত্রের অবস্থান। যেমন, সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালি’ ছবিতে বৃষ্টি খুবই ইঙ্গিতবহ। কারণ সেই বৃষ্টিতে ভিজেই মৃত্যু হবে দুর্গার। বিভূতিভূষণের মূল উপন্যাস পড়ে আমরা যা কল্পনা করেছিলাম, সত্যজিৎ তাই-ই ফ্রেমবদ্ধ করলেন। বাংলা সাহিত্য কিংবা চলচ্চিত্রের আবেগ থেকে দুর্গার অল্পবয়সী মৃত্যুর জন্য হয়তো অবশ্যম্ভাবী ছিল হঠাৎ বৃষ্টি। পাশাপাশি ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’র সেই অমোঘ দৃশ্য, যেখানে নীতা বাড়ি ছাড়া হচ্ছে। পিছনে দাঁড়িয়ে রয়েছে তাঁর দাদা। সেদিনও বৃষ্টি হয়েছিল খুব। নীতার জীবনের আরেক অধ্যায়ের সূচনা নাকি কোনোকিছুর সমাপ্তি! বৃষ্টি নিয়ে এসেছিল এমনই অনেক সিনেম্যাটিক প্রশ্ন। আজ বঙ্গদর্শনের ছবিমহল জুড়ে রইল এমনই কিছু বৃষ্টির ফ্রেম। যে ফ্রেম আপাত অর্থে অবিশ্বাস্য। যে ফ্রেম রচনা করেছিল চলচ্চিত্রের নতুন ভাষা। সত্যজিৎ-ঋত্বিক থেকে হাল-আমলের অনিরুদ্ধ, প্রদীপ্ত অনেকেই রইলেন এখানে। বর্ষায় কিন্তু সিনেমা দেখার মজাই আলাদা। আর বৃষ্টি যদি শুধুমাত্র বর্ষার না হয়ে অন্য কোনো ঋতুতে আসে! তাহলে সেই বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় আমাদের মানসিক চরিত্রও। আসুন বৃষ্টিতে ভিজি…
পথের পাঁচালি (১৯৫৫) | পরিচালক- সত্যজিৎ রায়
মেঘে ঢাকা তারা (১৯৬০) | পরিচালক- ঋত্বিক ঘটক
তিনকন্যা- সমাপ্তি (১৯৬১) | পরিচালক- সত্যজিৎ রায়
তিতাস একটি নদীর নাম (১৯৭৩) | পরিচালক- ঋত্বিক ঘটক
আকালের সন্ধানে (১৯৮০) | পরিচালক- মৃণাল সেন
খেলা (২০০৮) | পরিচালক- ঋতুপর্ণ ঘোষ
অন্তহীন (২০০৯) | পরিচালক- অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী
বাকিটা ব্যক্তিগত (২০১৩) | পরিচালক- প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য
সহজ পাঠের গপ্পো (২০১৬) | পরিচালক- মানস মুকুল পাল
