মেচুনি গানে কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, সবুজ সাথী

তিস্তার জলবন্টন চুক্তি নিয়েও গান বাঁধার কথা ভাবছে তারা

তিস্তা তাদের কাছে বুড়ি। আর সেই বুড়িকে সন্তুষ্ট রাখতেই গান বাঁধে, পুজো করে তারা। মেচ সম্প্রদায়ের মানুষ চাইত, নদীর পাড় না ভাঙে যেন। নদী হোক আপন। সেই কোনকালে মেচদের এক রানি প্রচলন করেছিলেন এই পুজোর। স্থানীয় বিশ্বাস, মহাদেব ফুলবাড়ি গ্রামে এসে মেচ নারীদের রূপে আকৃষ্ট হয়ে সেখানেই বসবাস শুরু করেন। সে-কথা জানতে পেরে দেবী গঙ্গা ও পার্বতী মহাদেবকে আকৃষ্ট করতে মেচুনি রূপ ধারণ করে গ্রামে আসেন। তারপর থেকেই শুরু হয় তিস্তাবুড়ির এই পুজো।

আচার কীই বা তেমন! ছাতাকে প্রতীক করে, ঘটপূজা। আর বুড়ির সম্পর্কিত বিভিন্ন সংলাপে সুর দিয়ে ধরা হয় গান। গান গেয়েই পুজোর দক্ষিণা সংগ্রহ করে তারা, ঘুরে ঘুরে। মানত অনুযায়ী সাত বা নয়দিন পর মূল মেচুনি পুজো। ফসলের প্রার্থনা, বন্যা, খরা, ঝড়বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতেও মেচুনির শরণ নেওয়া ছাড়া গতি কী!

শুধু পুরনো তিস্তা বুড়ির গান নয়, সমকালীন অনেক ঘটনাও মিশে গেছে মেচুনি গানে। কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, সবুজ সাথী, নির্মল বাংলা – সময়ের সঙ্গে প্রবেশ ঘটেছে এসব বিষয়েরও। এমনকি, তিস্তার জলবন্টন চুক্তি নিয়েও গান বাঁধার কথা ভাবছে তারা।
তারা, অর্থাৎ মেচুনি শিল্পীরা। একসময় জলপাইগুড়ির ধুপগুড়ি ব্লকের ফুলবাড়ি গ্রামজুড়ে ছিল তাদের বসতি। কালক্রমে হারিয়েছে মেচ সম্প্রদায়। রাজবংশীরাই এখন সংস্কৃতির ধারক। ময়নাগুড়ির পদমতি গ্রাম থেকে শুরু করে রাজবংশী অধ্যুষিত অন্য গ্রামেও মেচুনির গানের সঙ্গে তিস্তাবুড়ির পুজো চলে বৈশাখ জুড়ে।

উত্তরবঙ্গের বিলুপ্তপ্রায় এই লোকশিল্পের আয়ু আর কতদিন? রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের পদস্থ আধিকারিক জগদীশ রায় জানান, তাঁদের নজরে রয়েছে মেচুনি শিল্পীরা। এই সংস্কৃতি বাঁচাতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা।

উদ্যোগ নয় শুধু, স্বীকৃতি আসুক শিল্পের – এটুকুই আশা গাইয়েদের।

Developed by DXDasia