বাল্যবিবাহ, শিশুপাচার রুখে নজির শিলিগুড়ির ছাত্রছাত্রীদের

শতাধিক ছেলেমেয়েদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার নজির গড়েছে ৪০ জনের ওই টিম

কিছুদিন আগেই বঙ্গদর্শনে প্রকাশিত হয়েছিল মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার ৩২ জন ‘বিদ্যাসাগর’-এর বিজয়ের কাহিনি। বাল্যবিবাহ রুখতে ‘কন্যাশ্রী যোদ্ধা’ নাম নিয়ে মরণ পণ করে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তারা।  এবার সেই একই চিত্র দেখা গেল উত্তরবঙ্গেও। বিভিন্ন স্কুলের একদল ছাত্রছাত্রী ওরা। আটকে দিয়েছে বাল্যবিবাহ। রুখেছে শিশুপাচার। এমনকি, স্কুলছুট ছেলেমেয়েদের ফিরিয়েও এনেছে স্কুলে। এ-সবই প্রশিক্ষণের ফল। একবছর ধরে বিশেষ প্রশিক্ষণের পর মোট ৪০ জন ছাত্রছাত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হল সার্টিফিকেট। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সিনি’র উদ্যোগে মাস্টার ট্রেনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে তাদের।

শিলিগুড়ির কুলিপাড়ার রেখা সাহা, বাগড়াকোটের কাজল জয়সওয়াল – এরা সকলেই আর্থিক অসুবিধা ও পেটের তাগিদে ছেড়ে দিয়েছিল পড়াশুনা। শুধু এরাই নয়, শিলিগুড়ির বস্তি এলাকাগুলি থেকে পড়া ছেড়ে দেওয়া এমন শতাধিক ছেলেমেয়েদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার নজির গড়েছে ৪০ জনের ওই টিম। পাশাপাশি, বাল্যবিবাহের কিংবা শিশুপাচারের খবর পেলেও, শিলিগুড়ি থানার সাহায্য নিয়ে প্রতিরোধ করেছে সেসব।

সিনি-র তরফে শেখর সাহা জানান, এটি আসলে ইউথ লিডারশিপ তৈরির প্রশিক্ষণ। খোখো, ফুটবল প্রভৃতি খেলার মাধ্যমে নিজেদের বিকাশ ঘটিয়েছে তারা। ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে অধিকারের কোনও পার্থক্য নেই – পেয়েছে এই পাঠও।  শনিবার শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে সার্টিফিকেট দেওয়ার পাশাপাশি ওদের খেলায় আরও উৎসাহিত করার জন্য উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মহিলা খোখো খেলোয়াড় গুরমিত কৌর এবং জাতীয় যুবা ফুটবল খেলোয়াড় টেম্পা হাঁসদা। ছিলেন সমাজসেবী সোমনাথ চ্যাটার্জি ও জ্যোৎস্না আগরওয়ালাও। ভবিষ্যতে অন্যদেরও নিজেদের দলে টেনে আরও বেশি ভালো কাজে উদ্যোগী হবে, জানিয়েছে ওই ৪০ জন স্কুলপড়ুয়া।

Developed by DXDasia