বিস্মৃতি সরিয়ে ফিরে দেখা অগ্নিযুগের বিপ্লবী বসন্ত বিশ্বাসকে

১৯১৫ সালের ১১ মে ফাঁসিতে প্রাণ দিয়েছিলেন এই বঙ্গসন্তান

১৯১৫ সালের ১১ মে। পাঞ্জাবের আমবালা জেলে ফাঁসিতে প্রাণ দিয়েছিলেন অগ্নিযুগের বিপ্লবী বসন্ত বিশ্বাস। এর ঠিক তিনদিন আগেই ফাঁসি হয়েছিল আরো তিন বিপ্লবী আমিরচাঁদ, অবোধবিহারী এবং বালমুকুন্দর। এই চারজনের মধ্যে বসন্তই সর্বকনিষ্ঠ। বয়স মাত্র কুড়ি বছর। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগটিও গুরুতর—বড়লাট হার্ডিঞ্জকে হত্যার চেষ্টা। 

রাসবিহারী বসুর ডাকে মাত্র ষোলো বছর বয়সে ঘর ছেড়েছিল দামাল ছেলেটি। ‘বিশে দাস’ ছদ্মনাম নিয়ে চলে গেছিল উত্তর ভারত। স্বপ্ন রাসবিহারী বসুর নেতৃত্বে বৃহৎ বিপ্লব সফল করার, দেশকে মুক্ত করার। বড়ো দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ল কয়েকদিনেই। বড়োলাট হার্ডিঞ্জকে বোমা মেরে হত্যা করতে হবে। বিপ্লবী রাসবিহারীর অনুরোধে বোমা তৈরি করে দিলেন বিপ্লবী মণীন্দ্রনাথ নায়েক। ১৯১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর লর্ড হার্ডিঞ্জ হাতির পিঠে চেপে শোভাযাত্রায় বেরিয়েছেন দিল্লির রাজপথে। দু’পাশে ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে একজন স্ত্রীলোক। নাম লীলাবতী। হঠাৎ সেই মেয়েটি বোমা মারল শোভাযাত্রার মাঝখানে। আহত হলেন হার্ডিঞ্জ। মেয়েটিকে ধরা গেল না। বলাই বাহুল্য, সেই মেয়েটি আর কেউ নয়, বসন্ত বিশ্বাস।

বসন্তকে দীর্ঘদিন খুঁজে পায়নি ব্রিটিশ পুলিশ। এরমধ্যে, লাহোরে এসে লরেন্স গার্ডেনে পুলিস অফিসারদের নৈশ ক্লাবে বোমা ফেলার পরিকল্পনাতেও তিনি জড়িয়েছেন নিজেকে। পরে ফিরে এসেছেন নদীয়ায় নিজের গ্রামে। কিন্তু, এক জ্ঞাতি ভাইয়ের বিশ্বাসঘাতকায় অবশেষে ধরা পড়লেন, তারপর বিচারে ফাঁসির আদেশ। রাসবিহারী বসু জাপানে বসন্ত বিশ্বাসের নামে একটি স্মৃতিফলক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পরে। কিন্তু আমরা, তাঁর ভূখণ্ডের স্বাধীন নাগরিকরা, বহু বাঙালি বিপ্লবীর মতো তাঁকেও মনে রাখিনি বিশেষ।

আগামীকাল বসন্ত বিশ্বাসের ১০৫ তম আত্মোৎসর্গ দিবস। তাঁর স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখার কাজটি চালিয়ে যাচ্ছে ‘বেলিয়াঘাটা শহিদ বসন্ত বিশ্বাস স্মারক সমিতি’-র সদস্যরা। কাল সন্ধে ৫টা থেকে বসন্ত বিশ্বাস-সহ আরো বেশ কয়েকজন স্বাধীনতা সংগ্রামী শহিদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করবেন তাঁরা। সূর্য সেন স্ট্রিটের কৃষ্ণপদ ঘোষ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট হলে। উপস্থিত থাকবেন প্রাকত রাজ্যপাল ও প্রধান বিচারপতি শ্রী শ্যামল কুমার সেন, স্বাধীনতা সংগ্রামী শ্রী পূর্ণেন্দু প্রসাদ ভট্টাচার্য, শরৎ বসুর দৌহিত্র অভিজিৎ রায় প্রমুখ। 
 

Developed by DXDasia