প্লাস্টিক নয়, পিকনিকে ফিরে আসুক শালপাতা – মন্দারমণিতে অভিনব বার্তা এক পর্যটকের

সমুদ্রতীর থেকে সরাতে হবে যাবতীয় প্লাস্টিক, তাহলে মিলবে উপহার

এই শীতে শপথ নেওয়া যাক – আর প্লাস্টিক নয়, পিকনিকে বরং ফিরে আসুক শালপাতা। কাঁথির এক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্যামল জানা এমনই এক উদ্যোগ নিলেন ২৫ ডিসেম্বর বড়োদিনের মন্দারমণিতে। এলাকাবাসী এবং পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে শ্যামলবাবু ঘোষণা করেন, সমুদ্রতীর থেকে সরাতে হবে যাবতীয় প্লাস্টিক। তাহলেই দুপুরে ভর পেট খাবার এবং ৫০০ গ্রাম পেঁয়াজ উপহার পাবেন। শ্যামলবাবু মনে করেন এটা কারোর সুযোগ নিয়ে কিছু করা নয়, উদ্যোগ বা ভাবনার মধ্যেও অসততা নেই। কারণ পরিবেশকে দূষণ মুক্ত করতে মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। পেঁয়াজ আর খাবারের বিনিময়ে যদি কেউ এগিয়ে আসেন, তাতে লাভ পরিবেশেরই। মন্দারমণির মতো সুন্দর একটি জায়গাকে পরিষ্কার রাখতে পর্যটকদের সঙ্গে সঙ্গে এলাকাবাসীদেরও এগিয়ে আসা উচিত। রোজ সকালে যাঁরা আবর্জনার স্তূপ থেকে প্লাস্টিক কুড়োন, কাজের পর ঠিক মতো খাবার জোটে না। কিন্তু তাঁরা প্রত্যেকেই আমাদের সমাজের বন্ধু। তাঁরা খেতে না পারলে সমাজ স্বচ্ছ হবে কীভাবে! সেই জায়গা থেকেই শ্যামলবাবু এগিয়ে এসেছেন। 

বড়োদিনে সমুদ্রপাড়ে পিকনিক করতে আসেন প্রচুর মানুষ। তাঁরা যেন আর প্লাস্টিক বা থার্মোকল আর ব্যবহার না করেন। বরং শালপাতা ব্যবহার আবার শুরু হোক। সমাজকে সুন্দর রাখতে এই বার্তাতেই সারাদিন এলাকাবাসীদের সঙ্গে কাটালেন শ্যামলবাবু। যাঁরা প্লাস্টিক পরিষ্কার করতে এগিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের দুপুরে ভরপেট মাংস ভাত খাওয়ানো হয়। চার কেজি প্লাস্টিকের বিনিময়ে দেওয়া হয় ৫০০ গ্রাম পেঁয়াজ, দুই জোড়া ডিম এবং শীতের পোশাক।

Developed by DXDasia