মহাশ্বেতা দেবী

মহাশ্বেতা দেবীর জন্ম ১৯২৬, ১৪ জানুয়ারী, ঢাকা জেলায়। এক রোখা জেদি আর অফুরন্ত জীবনী শক্তির দুরন্ত প্রতিবিম্ব মহাশ্বতা দেবী। সঙ্গে দোসর ছিল তাঁর বিপুল সৃজন ক্ষমতা। এই বাঙালি বিদুষীর পাণ্ডিত্যের আর জেদের কাছে বারে বারে মাথা নুইয়েছে বিশ্ব ব্যাপী সারস্বত সমাজ। ‘অরণ্যের অধিকার’ থেকে ‘হাজার চুরাশির মা’ অথবা ‘রুদালি’ থেকে ‘সংঘর্ষ’ এক বিপুল বৈভবময় যাত্রা। আর তার সাথে সাথে অবাধ স্বীকৃতি। পদ্মশ্রী, পদ্মবিভূষণ, জ্ঞানপীঠ, ম্যাগসেসে, সাহিত্য আকাদেমি, বঙ্গবিভূষণ এর মতো উজ্জ্বল পালকগুলি আজ তাঁকে বাঙালির মুখ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছে দেশের ও দশের কাছে। কিন্তু নিজের কর্মক্ষেত্রকে কোনও দিনই চার দেওয়ালে বন্দী রাখেননি। এমনকী অহমিকাকেও ঘেষতে দেননি ধারে কাছে। নারীর অধিকার এবং দলিত সমাজের স্বীকৃতির আন্দোলনের সাথে সাথে লোধা শবরদের সৃজনী প্রতিভাকে ও তাদের হাতের কাজকে আলোয় ফিরিয়ে এনে কার্যত একটা জাতির বেঁচে থাকার দিশা দেখিয়েছিলেন মহাশ্বেতা দেবী। তাঁর দেখানো পথেই আদিবাসী লোকসংস্কৃতি ও সৃজন নূতন প্রেরণায় আজও বেগবান। এই বিপুল কীর্তির জন্য দেশ ও বাংলাকে তিনি ঋণী রেখে গেলেন। দেশ ও বাংলা তাঁকে আজীবন কুর্নিশ জানাবে এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Developed by DXDasia