
প্রেম দিবসে বঙ্গদর্শনের বিশেষ লেখা ২ : সেখ সাহেবুল হক
প্রেম এক বিশ্ব পরিক্রমা৷ স্বদেশভ্রমণ৷ কিংবা খুব চেনা এই শহর জুড়ে তোমায় খোঁজার ধাঁধা৷ হারিয়ে ফেলে নতুন নতুন করে আবিষ্কার। বুকে মুক্ত বিচরণ৷ আড়াল পেলে অগাধ বিস্ময়ে ছুঁয়ে দেখা৷ শ্বাসবায়ুর বিনিময়৷ হঠাৎ পাহাড় ঘুরে আসার মতোই শান্ত-শীতল হওয়া৷ একাকী ভাবসাগরে অবগাহন৷ ঘুরেফিরে আসে একটা অনন্ত পথ, সাতপাঁচ না ভেবেই যেদিকে দুচোখ যায় চলে যাওয়া৷ এত বিশৃঙ্খলায় ‘কোথাও পালিয়ে গেলে বেঁচে যেতাম’ ভাবার মধ্যে যে গন্তব্য, হয়তো সেটাই প্রেম৷
প্রেম একান্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি, কে কীভাবে খুঁজে পান সেটার মধ্যেই বিকশিত হয়– ভাতঘুমের মতো লেগে থাকে চোখে৷ তাকে ধরতে যতবারই মুঠো শক্ত করেছি, উড়ে গেছে চড়ুইয়ের ডানায়৷ প্রেম শস্য বোনার মতো আশাবাদী৷ হঠাৎ ঝড়ে ধ্বংসের মতো চিরসত্য৷
…প্রেমের জন্য হাতড়ে মরা সন্ধেয় লেডি ব্রেবোর্নের গেটে দাঁড়াবে এক মেয়ে, তাকে জেনেটিক্স খাতার জেরক্স দিয়ে ফিরে আসবে ভালোবাসায় মরতে চাওয়া কলেজবয়স। সে বয়স জেরক্সের পয়সা নেবে না। উল্টে বারোটাকা দিয়ে কোল্ডড্রিংক খাইয়ে ছাড়বে। মেয়েটি কিছুতেই খাবে না। কারণ সে জানে ছেলেটি তার প্রেমে পড়েছে, কিন্তু তাকে এড়িয়ে যেতে হবে। পচা শামুখে পা কাটার বয়স নয় তার।
এমন দোলাচলে ছেলেটির ঝোলাব্যাগ থেকে বেরোবে একটি লিটলম্যাগ। তাতে সদ্য ছাপা হয়েছে একটা প্রেমের কবিতা। কলেজপড়ুয়া বেকার ছেলের এর চেয়ে বেশি দেওয়ার কিছু নেই। মেয়েটি কবিতার কদর বোঝে না, তাই হয়তো পৃথিবীর অনেক কবিতাই অপাত্রে দান। দানই বা বলা হবে কেন, এ যে অর্পণ৷ মানবীর দেবী হয়ে ওঠা চরণে নীরবে একটি লালপদ্ম রেখে দেওয়া।
মেয়েটির রোগা শরীর, হোস্টেলের একঘেয়ে খাবার আর রাতজাগা ছাপ স্পষ্ট। এই সন্ধের আঁচে অখ্যাত কবি মেয়েটিকে মাংস রান্না করে খাওয়াতে চায়। এসব ভাবতে ভাবতে মেয়েটিকে রাজি করায় এক কাপ চায়ের জন্য। মাটির ভাঁড় হাতে নিয়ে ছেলেটি চুমুক দিতে ভুলে যায়। এ সভ্যতা চুমুর অভাব চুমুকে মেটাতে পারে না। দুটো উষ্ণতা ভিন্ন। এজন্যই পৃথিবীতে অপ্রাপ্তি লেখা হয়, না পাওয়া যন্ত্রণার নির্মাণ হয় কোনও অপ্রকাশিত সম্পর্কের মতো৷
মেয়েটি জলদি ফিরতে চায়। সামনে টুপিপরা মানুষের আনাগোনা। আজান হচ্ছে৷ মাগরিবের নামাজের তোড়জোড়। গুটখা মুখে কিছু ছেলে গুলতানি মারছে দূরে। ছেলেটি থমকে যেতে চায় ঘড়ির কাঁটায়। যেভাবে বাবার ঘড়িতে ছোটো চুম্বক রেখে সময় থমকে দিত ছোটোবেলায়।
…প্রেমের জন্য হাতড়ে মরা সন্ধেয় লেডি ব্রেবোর্নের গেটে দাঁড়াবে এক মেয়ে, তাকে জেনেটিক্স খাতার জেরক্স দিয়ে ফিরে আসবে ভালোবাসায় মরতে চাওয়া কলেজবয়স। সে বয়স জেরক্সের পয়সা নেবে না।
মেয়েটি নাছোড়বান্দা। ফিরে যাবে। প্রিয় নারীর প্রতি সমীহের কাছে ছেলেমানুষি জব্দ। ছেলেটির বিক্ষুব্ধ মনে মিষ্টি কথার বিন্দুমাত্র প্রলেপ না দিয়েই মেয়েটি হাঁটা দিল। হায় রে নিঠুর মেয়ে! তুমি কি বুঝবে না তোমার চলে যাওয়া আগ্রাসী নদীর মতো কারো বসতবাড়ি গিলে নিচ্ছে? ছেলেটি ফিরে তাকানোরও প্রত্যাশা করেনি। কারণ সে জানে রূপালী পর্দা এবং বাস্তবতার সূক্ষ্ম তফাৎ। কবিতা লিখে দু-লাইনে কাউকে পাতায় ধরে রাখা যায়, কিন্তু তাতে বাস্তবতার ট্রেনে ছেড়ে যায়। হাত বাড়িয়ে গেটে দাঁড়ালেও অপরপক্ষের হাত কেবল কল্পনায় পাওয়া যায়। ছেলেটি অনিশ্চয়তা বাজি রেখে চেয়ে থাকে মেয়েটির চলে যাওয়ার দিকে। চলে যাওয়াও যে কত মনোরম বেদনাদায়ক! এই দৃশ্যের শেষে একসময় ঝাপসা হয়ে আসে ক্ষণিক দেখার পর্বটা।
ছেলেটা ঝোলাব্যাগ সামলে হাঁটা দিল। তার সবুজ টি-শার্ট ধূসরতায় ভরে যাচ্ছে। দম বন্ধ হয়ে আসা মাছের খাবি খাওয়া আঁকছে। চোখে বন্ধ করা ট্যাপ, বিন্দু বিন্দু চুইয়ে পড়া জল। যেগুলো ঝরে পড়ে, অথচ কেউ পরোয়া করে না। অবহেলিত অপচয় যার নাম।
লেডি ব্রেবোর্ন হস্টেল ছাড়িয়ে সামনে বড়ো মোড়ে এসে রাস্তা পার হল। গোল ময়দানের বাইরে হাঁটার জন্য বরাদ্দ পথ ধরলো সে। বখাটে ছেলেদের জটলা থেকে চাইনিজ ফোনে জোরে জোরে গান বাজছে– “ওয়াদা করো তুম যানে সে পহলে, ফির মিলেঙ্গে সনম…”।
আরও পড়ুন: অ্যান্টি লাভ স্কোয়াড
থাকতে না পেরে সিগারেট ধরায় চালচুলোহীন প্রেমিক। লম্বা একটা টানে বিষ ভরে নেয় বুকে। যে অনন্ত প্রেম তার বুকে জমেছে, তাকে মেরে ফেলতে ইচ্ছে হয় তার। কাঁদতে পারে না যারা, তারা আসলে মৌনতার সাগর জমায়। ধীরেধীরে হেঁটে চলে, পেছনে পড়ে থাকা একরাশ ব্যর্থতা। এই মেয়ের ডাকনাম মিলিয়ে নাম রেখেছিল তিলোত্তমা? খানকতক প্রেমপত্র লিখেছিল সে! সেসব প্রেমপত্র মেয়েটাকে বুঝিয়েছে কারও জীবনে কত গুরুত্বপূর্ণ সে, খুশি হয়েছে৷ কিন্তু মেঘ ঘনিয়ে বৃষ্টি না হওয়ার মতো থেকে গেছে সবকিছু। নিষ্ফলা, প্রাণহীন৷
হালকা হাওয়ায় গাছের পাতা তার মাথায় ঝরে পড়ে। সহমর্মিতা পুষতে শেখা নির্বাক গাছেরাই সান্ত্বনা দেয়।
কিছু মেয়ে গাছ হতে সময় নেয়। কেউ কেউ কোনওদিনই গাছ হয়ে উঠতে পারে না। স্তনবৃন্তে কুঁড়ি, স্তনফলে শুধুই গাছ হওয়ার অভিনয় থাকে। ছায়া, আশ্রয়, অক্সিজেন এগুলোর সান্নিধ্যে কবিতার জন্ম, পুরুষজন্মের প্রেমিক পর্যায়ে উত্তরণ। এসব ভাবতে ভাবতে ভিড়ে মিলিয়ে যায় ছেলেটি। প্রেম কি তবে সত্যি উপলব্ধি করে শূন্যে মিলিয়ে যাওয়া!
ছেলেটা ঝোলাব্যাগ সামলে হাঁটা দিল। তার সবুজ টি-শার্ট ধূসরতায় ভরে যাচ্ছে। দম বন্ধ হয়ে আসা মাছের খাবি খাওয়া আঁকছে। চোখে বন্ধ করা ট্যাপ, বিন্দু বিন্দু চুইয়ে পড়া জল।
যে খাতুনের প্রেমে দিওয়ানা ছিলো আমার স্কুলজীবন। আজও তাকে দেখি, ছবি লাইক করি। কিন্তু সেই টান আর নেই। ক্লাস টুয়েলভ শেষ হতে বুঝেছিলাম, প্রেম জিনিসটা সম্মান দাবি করে। সেই সম্মান আমি তার থেকে পাইনি।
বাসস্ট্যান্ডের ক্ষণিকের দৃষ্টি বিনিময়ে সে সব জানত। মেয়েদের আলাদা অদৃশ্য প্রেম নির্দেশক অঙ্গ থাকে। জীবনের একটা পর্যায়ে এসে স্পষ্ট হয়েছিল৷ কেন আমি কৃত্রিম উপগ্রহের লেজ নেড়ে তার চারপাশে ঘুরতাম। টিফিনে স্কুলের মাঠের মাঝখান থেকে লম্বা ছয়টা দোতলায় তার কাছেই মারতে চাইতাম। ক্যুইজে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ওর একটা ফিরে তাকানোর অপেক্ষা করতাম। অন্ত্যাক্ষরীর মজলিসে হেঁড়ে গলা তাঁকেই শুনিয়ে গাইতে চাইতাম– ‘‘হমে তুমসে প্যায়ার কিতনা…”
তবু প্রেম ফিরে ফিরে আসে৷ অন্যরূপে। যে গান অন্যকারো জন্য গাইতাম সে গানের অন্তরা অন্য নামে বেঁধেছে সুরের বাঁধনে৷ স্বরলিপি যেন আমারই লেখা৷ হৃদয়ের প্লেলিস্ট জুড়ে প্রেম অবিনশ্বর।
জগৎ সংসারে ভালোবাসাটা যেমন অধিকার, তেমনি না বলার অধিকারও আছে। ব্যাপারটা সেখানেই যুক্তিতর্কে মিটে যায়। তারপরেও একটা গল্প থাকে। সেই গল্পে ক্লাসে ঢুকতে গিয়ে ধাক্কা লাগে। চৌরাসিয়া সুর তোলেন, নির্জন বালুতটে নগ্ন হয়ে ছুটে বেড়ানোর ইচ্ছে জাগে৷
ছেলেটি ভেবে নিচ্ছে পাহাড়-নদী-সমুদ্দুর। প্রেমিকার খোঁপায় ফুল গুঁজে দিচ্ছে, সাদাকালো ছবিতে প্রেমিকা নাকি সুরে বলে উঠছে– ‘প্রাণনাথ’। বন্ধুদের গাছেচড়ানো মন্ত্রনায় ফুটছে সে, আজ রাতেই হয়তো ঠিক করে ফেলবে বাচ্চাকাচ্চার নাম। অথচ মেয়েটি এমন কত প্রস্তাব খুব সাধারণভাবে সামলে উঠেছে। মেয়েদের জীবনে এসব হামেশাই ঘটে৷
সেই খাতুনের প্রেমেই কবিতা লেখা। সেগুলো কবিতা নয়। অখাদ্য অন্ত্যমিলে ক্লাসের বন্ধুরা কাঁধে তুলে গুরুদেব বলে মেনে নিতে পারে, কিন্তু শুধু কবিতায় কাউকে প্রেমের বাঁধনে মোড়া বোধহয় সম্ভব নয়। তবু ব্যর্থ চেষ্টাটা ছিল। সেই মেয়েই বুঝিয়েছিল, কবি ও প্রেমিকের সমীকরণ সরল। কিন্তু অভেদটা চোখ বুজলে ধরা পড়ে। এরপর কোনওদিন চারলাইন লিখে কাউকে ভোলানোর ব্যর্থতম সস্তা পন্থার আশ্রয় নিইনি।
প্রেম করলে গাছপালা ছাড়া কাউকে বলতে নেই। গাছেরাই একমাত্র প্রেমের ব্যাপারে সহনশীল। গাছেরা তোমার প্রেমের কথা জানলে খিলখিলিয়ে উঠবে। আরও সবুজ করবে চারপাশ। সন্ধের অবসাদে, লুকিয়ে সিগারেট টানা অবস্থায় ওরা সমব্যথী হবে। মেয়েটির পিছুপিছু ঘুরে ক্লান্ত হলে গাছ পেতে দেবে ছায়া। সর্বোপরি তোমার কথা তারা পেটে রাখবে, ছড়িয়ে দেবে না লাস্টবেঞ্চের গুজবসর্বস্ব দঙ্গলে। গাছ অন্যের প্রেম নিয়ে খিল্লি করে না। গাছেরা এমনই প্রেমবৎসল। তাই হয়ত গাছেদের দ্রুত শেষ করে ফেলছে প্রেমের শত্রুরা।
ভালোবেসে কতবার মনে হয়েছে নিজের রক্ত বিবর্ণ করে শহর লাল ফুলে ভরিয়ে দিই৷ থাকবো না আমি, তবু রঙিন থাকবে সবকিছু। এ সব আমারই নীরব আত্মদান৷ কেউ জানবে না, জানারই বা দরকার কী! ভোরের শিশিরে খোঁজা তিন অক্ষরের সেই নাম, বিদ্যুতের ঝলকানির আকস্মিকতায় ফুটে ওঠা নাম। এফএমে খুব চেনা গান, বিকেলে খেলার মাঠে কিশোরের মনখারাপ কেন! কেউ জানে না৷
বন্ধুরা যখন দেবাশিস মৌলিক বা পি আচার্য পুরোপুরি টুকে দিয়ে মারাত্মক নম্বর পেত। আমি বাহাদুরি দেখিয়ে নিজস্বতা জুড়তাম। লক্ষ্মীবাবু বলতেন, “হক, তুমি নিজে লিখেছ? খুব ভালো…”। আমি মোটেও বাংলা নিয়ে পড়িনি। বাংলার সাথে পরিণয় হলে হয়তো বাংলার প্রতি এই টানটা থাকতো না। নম্বরের মতো রোজকার টাকাপয়সার হিসেব, ঝক্কি ঝামেলায় ধ্বনি বিপর্যয়-বর্ণ বিপর্যয়ে সাংসারিক কলহ হয়ে উঠতে পারত। তিন অক্ষরের ‘বাংলা’ শব্দটায় সেই খাতুনের তিন অক্ষরের নামটা জুড়ে দিয়ে এমনই ফাঁকা অজুহাত খুঁজতাম একসময়। আর খুঁজি না৷ যা ছিল ছিল, চলে গেছে, সে তো যাবে বলেই এসেছিল৷ তবু কখনও মনে হয়েছে, চুম্বকের আকর্ষণের ততক্ষণ মূল্য আছে যতক্ষণ সে লোহাকে সম্মান দিয়ে বুকে টানছে। একপেশে প্রেমে যতই জোর থাক, সেটা আসলে কার্যহীন বল।
তবু প্রেম ফিরে ফিরে আসে৷ অন্যরূপে। যে গান অন্যকারো জন্য গাইতাম সে গানের অন্তরা অন্য নামে বেঁধেছে সুরের বাঁধনে৷ স্বরলিপি যেন আমারই লেখা৷ হৃদয়ের প্লেলিস্ট জুড়ে প্রেম অবিনশ্বর। তার বিশেষ দিনক্ষণ রেখে উদযাপন করা হয় হোক, কিন্তু দেখনদারিই প্রধান হয়ে যেন না ওঠে৷ ক’ফোঁটা চোখের জল ফেললে ভালোবাসা যায়, কিংবা এখানে আর ভালোলাগার মতো কিছু পাবে না আর– এ তর্কের মধ্যে প্রেম নীরব জোয়ার ভাঁটা৷ চুপি চুপি কাউকে আঁকড়ে বাঁচা৷ কেন ভালোবাসছি জানি না, কেন এত জড়িয়ে গেলাম জানি না৷
হয়তো কালেভদ্রে বুঝিয়ে দেওয়া আছি, ভীষণভাবে আছি৷ পায়ে পায়ে হাঁটা রাসবিহারী, ময়দানের সন্ধে– কিছুই তেমন নেই, তবু মনকেমন করে৷ বইমেলার কয়েক সেকেন্ডের চোখাচোখিতে যে মেয়েটা অনেককিছু ফিরে পেল, কথা বলা না হোক৷ তার ভালোবাসার কাছে ফিরে যাওয়া তো হল৷ একটি দিনের জন্য হলেও সে আমায় চেয়েছিল৷ সেটুকু পবিত্রতাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে হাঁটা দিলাম।
এমন কত বলতে না পারা প্রেমের চুপকথা, খেটে-খাওয়া মানুষের ক্লান্তির মতো বেঁচে থাকে অবচেতন প্রেম৷ কোনও পলাশ ভালোবেসেছে অর্জুনকে৷ সমাজ তাদের অন্যভাবে দেখে, তবু তারা ছায়া দেয়৷ কাঁধে মাথা রাখে৷ চুমু খায়৷ পাখিদের মুক্ত করে অসীম আকাশে৷ মেহেদি হাসানের গজলে গলা মেলায়৷
ভালোবেসে নিজেকেই সোচ্চারে বলতে পারা– ভালোবাসি, তাকে নির্লজ্জভাবে ভালোবাসি৷ সব অপদার্থতা সম্বল করেও ভালোবাসি৷ তাকে পর্বত হয়ে ভালোবাসি, তৃণভূমিতে বিলীন হয়েও ভালোবাসি৷ এই শহর যদি কখনও প্রাণহীন হয়ে যায়, তখনও বাঁচার তীব্র নেশায় ছটপট করে উঠবো সুপ্ত বীজে৷ শত ভুল বোঝাবুঝির শেষে আবার প্রাণের সঞ্চার হবে৷
প্রেম থাক দৈনিক গতির মতো৷ প্রতিটি সূর্যোদয়ে৷ প্রেমহীন পৃথিবী কেয়ামতের নির্দেশক৷ আদমের গন্দম কাণ্ডে আমাদের প্রেমের সূত্রপাত৷ সে পাপ তো তো আমারই কর্মফল৷ পৃথিবী ধ্বংস হলে ভালোবাসায় হোক৷
_____
প্রেম দিবসে বঙ্গদর্শনের বিশেষ লেখা | সেখ সাহেবুল হক | Valentine's Day | ভ্যালেন্টাইন্স ডে