
পথদুর্ঘটনা বাড়ছে প্রতিদিন। কী করবেন ক্ষতিগ্রস্তরা? কী ভাবে মিলবে ক্ষতিপূরণ?
এক
আজকাল কাগজ খুললেই দুর্ঘটনার খবর। দুর্ঘটনায় যিনি প্রাণ হারান বা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তিনি বা তার পরিবার কীভাবে বাকি জীবনটা কাটাবে সেটা অনেকেরই অজানা থেকে যায়। দুর্ঘটনায় ভালো ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেতে পারে। না পেলে আইনের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। সে বিষয় অন্ধকারে অধিকাংশ মানুষ। আইনি পরামর্শ দিচ্ছেন প্রবীণ আইনজীবী গীতানাথ গাঙ্গুলি।
বঙ্গদর্শনঃ এই পরিস্থিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি অথবা তাঁর পরিজন কোন আদালতে যাবেন?
গীতানাথ গাঙ্গুলিঃ প্রথমেই দেখতে হবে কি ধরনের দুর্ঘটনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অথবা তার পরিবার কী চাইছেন? যদি কোনও ব্যক্তি কর্তব্যরত অবস্থায় দুর্ঘটনাবশত মারা যান এবং পরিবার অফিসের দ্বারস্থ হয়েও কিছু না পান, তাহলে তিনি সিভিলকোর্ট-এ যাবেন। মোটর ভেহিকেল অ্যাক্ট অনুযায়ী ক্লেম করে ক্ষতিপূরণ চাইবেন। কোম্পানির বিরুদ্ধে লেবার কোর্টেও মামলা করা যায়।
বঙ্গদর্শনঃ দুর্ঘটনা যদি শহরের বাইরে হয়, সে ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে?
গীতানাথ গাঙ্গুলিঃ যদি দুর্ঘটনা বাইরে মানে জেলায় হয় এবং যে গাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছে তার মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়, তাহলে মোটর অ্যাক্সিডেন্ট ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল-এ মামলা করতে হবে। প্রতি জেলায় এই ধরনের ট্রাইব্যুনাল আছে। বিচারক জেলা কোর্টের সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করেন। গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে ক্লেইমস পিটিশনে তাকে এবং ইনসিওরেন্স কোম্পানিকে পার্টি করতে হবে। গাড়ির মালিক অধিকাংশ সময়ে ইনসিওরেন্স কোম্পানিকে সামনে রেখে মুক্তি পান।
বঙ্গদর্শনঃ ট্রাইব্যুনালে হেরে গেলে?
ট্রাইব্যুনালে হারলে মামলাকারী হাইকোর্টে আপিল করতে পারেন। তিন ধরনের আপিল হয়। টাইব্যুনালে হারলে সেই ডিসমিসাল আপিলের বিরুদ্ধে এগেন্সট আপিল। টাকার অংক পছন্দ না হলে বাড়ানোর আপিল করা যাবে। আর মামলাকারীর বিরুদ্ধে ইনসিওরেন্স কোম্পানির আপিল। মনে রাখবেন, এ ধরণের মামলা হাইকোর্টের একমাত্র ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হবে। হাইকোর্টে যিনি হারবেন তিনি সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারবেন।
বঙ্গদর্শন- কত টাকা পাওয়া যেতে পারে?
গীতানাথ গাঙ্গুলিঃ social welfare benificial legislation act একটি কেন্দ্রীয় আইন। এই আইন অনুযায়ী মামলাকারী টাকা পেতে পারেন। মারা গেলে ৫০হাজার টাকা আহতরা নুন্যতম ২৫ হাজার টাকা পাবেন। তবে এর সঙ্গে মৃতের বয়স, মারা যাবার সময় রোজগার, ক্ষতির পরিমান এমনকি অন্তেষ্টির খরচ এর দাবি করা যায়। সম্প্রতি একটি মামলায় ক্ষতিপূরণ বাবদ মৃতের পরিবারকে ৩৪ লক্ষ টাকা দিতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এই ধরনের মামলায় মৃতের স্নেহ থেকে সারাজীবন বঞ্চিত এই মর্মেও ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়।
বঙ্গদর্শনঃ কতটা সময় লাগতে পারে?
গীতানাথ গাঙ্গুলিঃ ক্লেম ফাইল করলে ইমিডিয়েট পেমেন্ট এর জন্য শুনানি করা যায় ৫-৬মাস সময় লাগতে পারে শুনানি শুরু হতে।
বঙ্গদর্শনঃ কোর্টের বাইরে কি সেটলমেন্ট সম্ভব?
গীতানাথ গাঙ্গুলিঃ অনেকেই কোর্টের ঝামেলা নিতে চান না। সেক্ষেত্রে লোকআদালতে দুপক্ষের মধ্যে মিটমাট করা যায়। আবার বিচারকের সামনেও এই মিটমাট হতে পারে।
