এ রাজ্যে তৃণমূলই বিজেপি বিরোধী ‘মহাজোট’-এর নেতা

তৃণমূল ‘বুনোওল’। কিন্তু ভোটবাক্সে ‘বাঘা তেঁতুল’ বিজেপির ভোট বাড়ছে কেন?

হেডিং দেখে রেগে যাবেন না বামদাদারা। বাস্তব রাজনীতির কথাই বলছি। ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটে তৃণমূল পেয়েছিল ৩৯ শতাংশ ভোট। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে সেটা বেড়ে হলো ৪৫ শতাংশ। মনে রাখতে হবে, বিধানসভা ভোটে জোরজবরদস্তির অভিযোগ কোনও বিরোধীরাই তেমন ভাবে তোলেনি। এরপর রাজ্যে কয়েকটা উপনির্বাচন হয়েছে। কোচবিহার ও তমলুক লোকসভা এবং মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা হয় ২২ নভেম্বর ২০১৬। দুটি লোকসভা ও একটি বিধানসভা মিলিয়ে ১৫টি বিধানসভা এলাকার ভোট যোগ করলে তৃণমূলের ঝোলায় ৬১ শতাংশ ভোট।

ওই একই ভোটগুলিতে বামফ্রন্টের ভোট কমার ছবিটা একবার দেখা যাক। ২০১৪ সালে ৩০ শতাংশ ভোট, ২০১৬-তে ২৭ এবং ২০১৬-র উপনির্বাচনে ১৪ শতাংশ ভোট। কংগ্রেসের তল্পিও ক্রমেই ছোট হচ্ছে। ২০১৪-র লোকসভা ভোটে ১০, ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে ১২ শতাংশ এবং ২০১৬-র উপনির্বাচনে মাত্র ২ শতাংশ ভোট। এটা ঠিক যে ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে বাম-কংগ্রেস জোট হয়েছিল। বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের মিলিত ভোট ২০১৪-তে ছিল ৪০ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে ৩৯ শতাংশ।

অন্যদিকে বিজেপির ভোটের গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য করুন। ২০১৪ সালে ১৭, ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে ১০ শতাংশ ভোট। কিন্তু ২০১৬ সালের উপনির্বাচন থেকে হাওয়া উল্টোপাল্টা বইতে থাকে। ২০১৬ সালের কোচবিহার ও তমলুক লোকসভা এবং মন্তেশ্বর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির ভোট বেড়ে দাঁড়ায় ২১ শতাংশে। দেখা যায়, বাম ও কংগ্রেসের ভোট দারুণভাবে কমে সেই ভোটের একটা বড় অংশ বিজেপির ঝোলায় গিয়েছে।

এই পটভূমিতে কদিন আগে ১৪ এপ্রিল কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের ঝুলিতে পড়েছে ৫৬ শতাংশ ভোট। ২০১৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে এখানে তৃণমূল পেয়েছিল ৫৪ শতাংশ। এই উপভোটে বাম ১০ শতাংশ, কংগ্রেস ১ শতাংশের সামান্য বেশি পেয়েছে। বিজেপি সেখানে এক ধাক্কায় উঠে গেছে ৩১ শতাংশে। এই কেন্দ্রে গত বছর বিধানসভা ভোটে বিজেপির প্রাপ্তি ছিল মাত্র ৯ শতাংশ ভোট। বাম ও কংগ্রেসের ভোট হুড়মুড় করে বিজেপিতে চলে যাচ্ছে। উপনির্বাচনে শাসক দলের অ্যাডভান্টেজ থাকে, এটা ঠিক। তবুও বাম-কংগ্রেসের ক্ষয় ও বিজেপির উত্থান বাস্তব ঘটনা।

কেন? সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ হচ্ছে। হিন্দুত্বের নামে রাজনীতির খেলাধুলো চলছে। তবে এটাই সব নয়। যারা তীব্র তৃণমূল বিরোধী, তারা মনে করছেন, বুনো ওলকে জব্দ করতে বাঘা তেঁতুল চাই। সম্প্রতি রাজ্যের একটা অংশের মানুষ মনে করতে শুরু করেছেন, বিজেপি-ই সেই বাঘা তেঁতুল।

তাহলে দাঁড়ালোটা কী? তৃণমূলের সমর্থন বাড়াটা জারি আছে, কিন্তু দ্রুত গোটা বিরোধী স্পেসটা বিজেপি নিয়ে নিচ্ছে। বাম-কংগ্রেসের ক্ষমতা নেই এই বিজেপিকে ঠেকাবার। যারা বিজেপিকে ঠেকাতে চান, আপাতত তৃণমূলের হাতই তাঁদের শক্ত করতে হবে। আর তৃণমূল সুপ্রিমোকেও ভাবতে হবে কেন অনেক লোক তাঁর হাতে গড়া দলকে এতটাই বুনো ওল ভাবছে যে বিজেপিতেও আপত্তি নেই। হেরে যাবার যখন কোনও ভয় নেই, তখনই তো উপযুক্ত সময় নিজেদের দিকে চেয়ে দেখার, বদলাবার।

Developed by DXDasia