
বললেন, ধর্ম নয়, মনুষ্যত্বই সবার আগে
ভারতবর্ষ ভিন্ন জাতি, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন খাদ্যাভাসের দেশ। এই দেশে তাই ধর্ম নয়, মনুষ্যত্বই শেষ কথা। ঠিক এমনই একটি ঘটনা ঘটল পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে। সত্তর বছর বয়সী দুলাল মণ্ডলের অকস্মাৎ মৃত্যু ঘটে। তাঁর ছেলে তারপর দিশেহারা হয়ে পড়েন। দেহ সৎকার করতে খাটিয়া কাঁধে তোলার লোক নেই। এই খবর শুনে এগিয়ে এলেন ওই গ্রামেরই বাসিন্দা শেখ জিয়ারুল, জয়সীম মণ্ডল, শেখ কালু, লালন মণ্ডল, সাইফুল শেখ। জাতিতে প্রত্যেকেই মুসলিম। কিন্তু তাতে কী! ছোটো থেকে দেখছেন বাবা-ছেলেকে। একসঙ্গে মাঠে ক্রিকেট খেলে বড়ো হয়েছেন। বন্ধুর বাবার মৃত্যুতে এগিয়ে না গেলে হয়! চাঁদা তুলে খাটিয়া জোগাড় করলেন তাঁরাই। তারপর শ্মশানে নিয়ে গিয়ে সৎকার করলেন।
ধর্ম নয়, মনুষ্যত্বই শেষ কথা। আবার একবার প্রমাণ হল। ওই গ্রামে মাত্র তিনঘর হিন্দু, বাকি ৩০০ পরিবার মুসলিম। কারো বিপদ হলে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে একে অপরের পাশে দাঁড়ান। একজোট হন। জিয়ারুল বলেন, দেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার লোক নেই। এইরকম বিপদে পাশে না দাঁড়ালে আর কখন দাঁড়াব?
