বোমা-পাথর নিয়ে বিজেপির ‘শান্তিপূর্ণ’ অভিযানে লাঠি, টিয়ারগ্যাস, জলকামান

গোটা ঘটনায় পুলিশের ওপর দায় চাপিয়ে বিজেপির রাজ্যসভাপতি বললেন, ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা না থাকলে তো এমনটা হবেই

কিছুতেই বোমা পাথর আর আগুন থেকে বেরুতে পারছে না রাজ্যের বিরোধী রাজনীতি।

অ্যামবুলেন্স নিয়ে মিছিল করার কথা আগেই ঘোষণা করেছিল রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। তখনই টের পাওয়া গিয়েছিল লালবাজার অভিযানে অন্যরকম শক্তিপরীক্ষায় নামতে চলেছে কেন্দ্রের শাসকদল। আজ সারাদিন কলকাতার ব্রেবোর্ন রোড, বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট সহ বিভিন্ন রাস্তা রণক্ষেত্রের চেহারা নিল। টি বোর্ডের কাছে ‘শান্তিপূর্ণ’  মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে পেটো ছোঁড়ার অভিযোগ উঠল। জ্বালিয়ে দেওয়া হল পুলিশের জিপ। এলোপাথারি পাথর ছোঁড়াছুড়ি তো ছিলই। পুলিশের পালটা লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস এবং জলকামানে আহত হন বেশ কয়েকজন বিজেপি সমর্থক। গ্রেপ্তার হন দিলীপ ঘোষ, কৈলাশ বিজয়বর্গীয় সহ বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। সব মিলিয়ে কার্যত আতঙ্কের ছবি দেখল মহানগর। আর গোটা ঘটনায় পুলিশের ওপর দায় চাপিয়ে বিজেপির রাজ্যসভাপতি বললেন, ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা না থাকলে তো এমনটা হবেই।

বিজেপি নেত্রী রূপা গাঙ্গুলির হুমকি ছিল পুলিশ আটকালেও আমরা এগোতেই থাকব। যতক্ষণ না পুলিশ আমাদের মারবে আমরা এগোতেই থাকব। সেই তিনিই আবার বললেন, সামান্য ডেপুটেশন দিতে যাব। তা নিয়ে রাজ্য সরকারের এত পুলিশ মোতায়েনের কী প্রয়োজন। তো ‘সামান্য ডেপুটেশন’ দিতে যাওয়ার জন্য প্রতি মিছিলের সঙ্গে অ্যামবুলেন্স রাখার প্রয়োজনীয়তা কী, সে প্রশ্ন উঠছেই। তা হলে কি এহেন ‘শান্তিপূর্ণ মিছিল’ শহরবাসীকে উপহার দেওয়ার চিত্রনাট্য লেখাই ছিল ৬ মুরলী ধর সেন লেন, রাজ্য বিজেপি-র সদর দপ্তরে? আর বিরোধী দলের  বোমা-পাথর-আগুনের রাজনীতি যে এ রাজ্যে দলমত নির্বিশেষে সহজে থামার নয়, এ দিনের লালবাজার অভিযান তা আরেকবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

Developed by DXDasia