বক্স-অফিস থেকে চিকিৎসাক্ষেত্র—নজির গড়ছে ‘কণ্ঠ’

ল্যারিঞ্জেকটমি ক্লাব গড়তে চাইছে ঢাকা, অসম, গুজরাটও

‘হাল ছেড়ো না বন্ধু, বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে…’

কলকাতার নাগরিক কবিয়ালের লেখা এই কথাগুলিই দিব্বি ট্যাগলাইন হতে পারত নন্দিতা-শিবপ্রসাদের নতুন ছবির। বিখ্যাত রেডিও জকি অর্জুন ক্যানসারে হারিয়ে ফেললেন কথা বলার ক্ষমতা। বাদ গেল স্বরযন্ত্র। যে কণ্ঠ ঘিরেই তাঁর অস্তিত্ব, সাফল্য—সেটা হারালে কতখানি অবসাদে তলিয়ে যেতে পারেন একজন শিল্পী? সেই অবসাদ থেকে ফিরে আসার গল্প তাই রূপকথার মতো। সিনেমার পর্দায় তেমনই এক সত্যি রূপকথা বুনেছেন নন্দিতা-শিবপ্রসাদ। ‘সত্যি’ কারণ, যে ল্যারিঞ্জেকটমি ক্লাবের কথা এই ছবিতে রয়েছে—তা বাস্তবেও সম্ভব। সম্ভব খাদ্যনালী দিয়ে কথা বলার ব্যাপারটিও। কিন্তু ‘রূপকথা’ শব্দটিও সমান সত্যি। কারণ, কণ্ঠ হারানো একজন শিল্পীর কণ্ঠ ফিরে পাওয়ার লড়াই তো সচরাচর দেখতে পাই না আমরা। অন্তত আমাদের চারপাশে।

‘সত্যি’ অথচ ‘রূপকথা’-র মতো গল্প বুনেই বাজিমাত করেছেন নন্দিতা-শিবপ্রসাদ জুটি। বাজিমাত বক্স অফিসে এবং জনমানসেও। তৃতীয় সপ্তাহে পা দিয়েও রমরম করে চলছে এই ছবি। প্রথম ১১ দিনেই ২ কোটির বেশির বেশি ব্যবসা করেছিল ‘কণ্ঠ’। তৃতীয় সপ্তাহে হলের সংখ্যা ৯২ থেকে কমে হয়েছে ৭৭। প্রেক্ষাগৃহে ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’-এর মতো ছবিও এসেছে। তারপরেও, ‘কণ্ঠ’ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শকরা। ব্যবসা আড়াই কোটি ছাপিয়ে গেছে। ব্যবসার অঙ্ক যে আরো বাড়বে, সন্দেহ নেই।

তবে, কণ্ঠ-র আসল বাজিমাত অন্য জায়গায়। যে সমস্ত মানুষরা শব্দযন্ত্র হারিয়েছেন, তাঁরা বেঁচে থাকার নতুন রসদ খুঁজছেন এই সিনেমা থেকে। ঠিক হয়েছে কলকাতায় ‘কণ্ঠ’ নামেই একটি ল্যারিঞ্জেকটমি ক্লাব খোলা হবে। এই ছবির প্রভাব ছড়িয়েছে গুয়াহাটি, আহমেদাবাদ, বেঙ্গালুরুতেও। বিশেষ স্ক্রিনিং-এর ডাক আসছে ‘কণ্ঠ’-র। সীমা পেরিয়ে ওপার বাংলার ঢাকাতেও নাকি গড়ে উঠতে চলেছে ল্যারিঞ্জেকটমি ক্লাব। একটি বাংলা ছবি সমাজে-চিকিৎসাক্ষেত্রে এমন সাড়া ফেলতে পেরেছে কি আগে? 
 

Developed by DXDasia