
বড়ো স্ক্রিন আর দারুণ সাউন্ড সিস্টেমের জন্য আলাদা করে নজর কেড়েছিল প্যারাডাইস
করোনা আবহে সিনেপাড়ায় একের পর এক দুঃসংবাদ। চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ধর্মতলার বিখ্যাত সিঙ্গেল স্ক্রিন ‘প্যারাডাইস’। এর আগেও ধর্মতলা চত্বরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে এলিট, রক্সি, লাইট হাউজ, গ্লোব। প্রত্যেকটি সিনেমা হলই ছিল বিখ্যাত। বাংলার সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলি লড়ে যাচ্ছে। এই লড়াইয়ে কেউ টিকে যাচ্ছে, কেউ চিরতরে বন্ধ করে দিচ্ছে ঝাঁপ।
আরও পড়ুন: নতুন সাজে পুরোনো ‘প্রাচী’
সিনেমা হলের পক্ষ থেকে সুনীত সিং জানিয়েছেন, সিনেমা হল বন্ধ করে দেওয়ার আলোচনা চলছে। তাই আপাতত, কোনও সিনেমাই দেখানো হবে না। তবে ভবিষ্যতে এই সিনেমা হলের জায়গায় শপিং মল হবে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট করেননি প্যারাডাইস কর্তৃপক্ষ।
প্যারাডাইস বন্ধ হওয়ায় কলকাতার সিঙ্গেল স্ক্রিনের ইতিহাসের একটা বড়ো অধ্যায়ের শেষ হল বলেই মনে করছেন সিনেপ্রেমীরা। এই হল নিয়ে অনেক প্রবীণ নাগরিকের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটের এই সিনেমা হল ১৯৪৩ সালে তার যাত্রা শুরু করেছিল। ১৯৫৬ সালে শুরু হয় নতুনভাবে সংস্কারের কাজ। সংস্কার করতে খরচ হয়েছিল প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন। এক সময় বড়ো স্ক্রিন আর দারুণ সাউন্ড সিস্টেমের জন্য আলাদা করে নজর কেড়েছিল প্যারাডাইস।
সে সময় গ্লোব, লাইটহাউজ, নিউ এম্পেয়ারে রমরমিয়ে চলত হলিউড ছবি। এর পাশাপাশি বলিউড ছবির জন্য প্রসিদ্ধ ছিল প্যারাডাইস। রাজ কাপুরও পা রেখেছিলেন এই সিনেমা হলে। আপাতত, সব ইতিহাস। প্যারাডাইসে সিনেমা দেখতে পারবেন না কলকাতার মানুষ।
