
প্রায় ‘ডান হাত’ বিনয়ই কি গুরুংয়ের শক্তিশেল?
হঠাৎই পাহাড়ের রাজনীতিতে বিনয় তামাং একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে উঠে এসেছে। বিনয় যে খুব অপরিচিত মুখ তা নয়, তবু অনেকেরই প্রশ্ন, কে এই বিনয় যিনি বিমল-শনদের নেতৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন?
বেশ কয়েকমাস ধরে দার্জিলিং অশান্ত। বন্ধের জেরে বিপন্ন পাহাড়। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রধান বিমল গুরুং-এর হুমকি উপেক্ষা করে কেউ পাহাড় দোকানপাট খুলতে সাহস পায়নি। কিন্তু সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করে আসার পর পাহাড়ের বন্ধ শিথিল করাতে উদ্যোগ নেন মোর্চা নেতা বিনয় তামাং। আর এই নিয়ে বিমল গুরুং-এর সঙ্গে তুমুল বিরোধ তৈরি হয়েছে বিনয় তামাং-এর। পাহাড়ের রাজনীতিতে এখন চর্চার বিষয় এই বিনয় তামাং। রবিবারও গুরুং-এর হুমকি উপেক্ষা করে দার্জিলিং-এ তামাং-এর পালটা, তিনি মোর্চা নেতাদের সব বেআইনি সম্পত্তির তথ্য ফাঁস করে দেবেন। কিন্তু কে এই বিনয়?
বয়স ৫৪। বাড়ি দার্জিলিঙের ডালি এলাকায়। তাঁর বাবা ব্রিটিশ সেনায় কর্মরত ছিলেন। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। তাঁর জ্যাঠতুতো দাদা হলেন ইঞ্জিনিয়ার। সেই দাদারই ডালি এলাকায় একটি নার্সারি স্কুল ছিল। স্নাতক উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেই স্কুলেই শিক্ষকতার কাজ করতেন বিনয়। সেখানে কাজ করতে করতেই বিনয় প্রশান্ত তামাং ফ্যান ক্লাবে যাতায়াত শুরু করেন। ২০০৫-২০০৬ সাল নাগাদ। ইন্ডিয়ান আইডল প্রশান্ত তামাংকে ভোট দেওয়ার প্রশ্নে সুবাস ঘিসিংকে পাহাড় থেকে ঠেলে উত্থান ঘটে বিমল গুরুং-দের। আর সেই সময়েই প্রশান্ত তামাং ফ্যান ক্লাবে যাতায়াতের সুত্রে বিনয়ের সঙ্গে আলাপ হয় বিমল গুরুং-এর। গুরুং তাঁর দল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা গঠন করলে তার প্রচারসচিব করা হয় বিনয়কে। ২০০৭ সালে পাহাড়ের আন্দোলনের জেরে বিনয় তামাংকে দশ মাসের জন্য জেলেও যেতে হয়। আর এই পর্বেই সংবাদ মাধ্যমকে ভুল কিছু তথ্য সরবরাহের অভিযোগে তাকে প্রচার সচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেন গুরুং। সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় হরকাবাহাদুর ছেত্রীকে। তখন থেকেই গুরুং-এর সঙ্গে তার ঠান্ডা লড়াই শুরু। তবে তাঁকে সরিয়ে হরকাবাহাদুরকে প্রচারসচিব পদে আনায় বিনয় আবার গুরুং-এর কাছে যাওয়ার চেষ্টায় নামেন। সফলও হন। অবশেষে গুরুং তাঁকে মোর্চার সহ-সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে নিয়ে আসেন। গুরুং আর রোশন গিরির অবর্তমানে পাহাড়ের বিভিন্ন বিষয়ে বিনয়ই সব বলবেন বলে গুরুংয়ের ঘোষণা ছিল। কিন্তু এবারে আবার বিরোধ। নবান্নে বৈঠক করে পাহাড়ে ফিরে গুরুংয়ের অজান্তে তামাং বনধ শিথিল করার কথা ঘোষণা করেন। গুরুং অভিযোগ করেন, তার সঙ্গে কথা না বলেই বন্ধ শিথিল করা হয়েছে। কিন্তু পাহাড়ের বহু মানুষ বনধে বিরক্ত হয়ে তামাং-এর পাশে দাঁড়ান। গুরুং বাহিনীর দাপটে পাহাড় ফের বনধের পথেই চলে যায়। যদিও পরে তামাং দাবি করেন, তিনি বিমল গুরুং-এর সঙ্গে কথা বলেই বনধ শিথিল করেছিলেন। ফলে তামাং এখন গুরুং-এর পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চার বিষয়। এই টানা পোড়েনে তৃণমূল ফের নিজেদের হারানো জমি ফিরে পেতে শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস মিরিকে রবিবার মোমবাতি নিয়ে শান্তি মিছিল করেছে। সোমবারও তাদের মিছিল হয়। সোমবার পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব শিলিগুড়িতে বলেন, তাঁরা সিকিমের আচরণে খুশি নন। ওখানে বিমল গুরুংকে প্রটেকশন দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাজ্য থেকে এই রকম আচরণ মোটেই কাম্য নয়।
