অন্ধত্ব সত্ত্বেও বাধা নেই পড়াশুনায়

কালীবাড়ি কমিটি চারজনের হাতে তুলে দেয় একবছরের পড়াশুনার খরচ

চোখে দেখতে পায় না ওরা। তবু, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে ফলাফল গর্ব করার মতো। সোমবার শিলিগুড়ির ঐতিহ্যমণ্ডিত আনন্দময়ী কালীবাড়িতে এমনই চারজন দৃষ্টিহীন ছাত্রছাত্রীকে সারা বছরের পড়ার খরচ তুলে দিল ঐ কালীবাড়ি কমিটি।

নূর আলম, তাহিদা খাতুন, পূজা শাহ্‌, তনুশ্রী বিশ্বাস। । ভেবেছিল, অর্থের জন্য বন্ধ করে দিতে হবে পড়াশুনা। খবর পেয়ে সোমবার বিকেলে কালীবাড়ি কমিটি চারজনের হাতে একবছরের পড়াশুনার খরচ তুলে দেয়। আগামী দিনেও উচ্চশিক্ষার জন্য ঐ চারজনের পাশে থাকবেন, জানিয়েছেন তাঁরা। কালীবাড়ি কমিটির সম্পাদক ভাস্কর বিশ্বাসের মতে, তাঁদের কাছে পুজোর আরেকটি অংশ হল মানুষের সেবা করা, সামাজিক কাজ করা। সেই সূত্র ধরেই ঐ চারজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর পাশে দাঁড়ালেন ধর্মের বেড়া ডিঙিয়ে।

পরাধীন ভারতে ১৯২৫ সালে চারণ কবি মুকুন্দ দাস শিলিগুড়িতে এসেছিলেন। আনন্দময়ী কালীবাড়ি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ভুলে যাওয়ার নয়। সোমবার কালীবাড়ির দুর্গামন্দিরের নতুন নির্মাণ-সংক্রান্ত শিলান্যাস হয়। শিলান্যাস করেন জলপাইগুড়ি রামকৃষ্ণ আশ্রমের স্বামী শিব প্রেমানন্দজি। এরই সঙ্গে সেখানে আসন্ন শারদীয়া দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে এবারে দুঃস্থ শিশুদের মধ্যে নতুন জামাকাপড় বিলি করা হবে বলেও জানান ভাস্করবাবু। সোমবারের সেই অনুষ্ঠানে শিলিগুড়ি ‘ফুলেশ্বেরী নন্দিনী’র তরফে কণিকা দাস, মলয় চক্রবর্তী, রত্না চক্রবর্তী, বুলবুল বোস, শিল্পী পালিত, মিথু আইচ, গার্গী বোস, বনানী বর্মণ প্রমুখ গীতিআলেখ্য পরিবেশন করেন।

Developed by DXDasia