
ওরা কী করে আমাদের এতটা ঘৃণা করতে পারল? কী করে পারল এতটা নিষ্ঠুর হতে?
নতুন পোষাক, নমাজ, সিমাই, বিরিয়ানি, ভাতৃত্বের আলিঙ্গনে যখন সারা বিশ্ব উদযাপন করছে খুশির ঈদ, তখন এখানে কেবল বিষন্নতা আর স্তব্ধতা। হরিয়ানার বল্লভগড়ের খান্ডওয়ালি গ্রাম। সকাল থেকেই স্থানীয় ঈদগায় নমাজ পড়ার ভিড় থাকে প্রতিবার। এবার সেই ভিড় তো নেই-ই, গ্রামের পুরুষেরা হাতে বেঁধেছেন শোকের প্রতীক কালো ব্যান্ড।তাঁদের ঘরের ছেলে জুনেইদ যে নেই এবার খুশির ঈদে।এ কথাটা মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা।
২২ জুন ট্রেনে দিল্লি সদর বাজার থেকে ঈদের বাজার সেরে ভাইদের সঙ্গে ঘরে ফিরছিল জুনেইদ। তারা গোমাংস নিয়ে যাচ্ছেন, এই জিগির তুলে একদল যাত্রী তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু করেন। কথা পৌঁছয় হিংসায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী দু-জন যাত্রীর ছুরি দিয়ে কোপাতে থাকেন জুনেইদদের। এখানেই শেষ নয় আশাবতী স্টেশনে তাদের ছুঁড়ে ফেলে দেয় কমপক্ষে ২০ জনের দুষ্কৃতীদল। প্রাণ হারায় ১৬ বছরের জুনেইদ।
‘ঈদ মানে অনেক রঙ, ঘরে ঘরে বিরিয়ানির গন্ধ, হাসি, ছোটদের খেলা-খুনসুটি একসাথে খাওয়া-দাওয়া, হৈ-হুল্লোর। এ গ্রামের আশপাশে আপনি কোথাও এসব দেখতে পাচ্ছেন? জুনেইদের পরিবার শোকে আচ্ছন্ন, এই অবস্থায় ঈদ উদযাপন করা পাপ’- বলছেন জুনেইদ-এর প্রতিবেশী মহম্মদ ইরফান।
শোকে নাওয়া-খাওয়া ভুলেছেন জুনেইদ-এর মা সায়রা। প্রতিবেশীরা সান্ত্বনা দিতে জড় হলেও তিনি শয্যা ছাড়ছেন না। আত্মীয়া মাকশুদা বলছেন, ‘এই প্রথম ঈদে আমরা বিরিয়ানি রান্না করিনি, নতুন পোষাক পরিনি। ভেবেছিলাম কিছু মিষ্টি বানাব, তাও পারলাম না। জুনেইদ আমাদের সঙ্গে নেই ভাবতেই পারছিনা’।
পরিবার আর গ্রামবাসীদের এখন একটাই প্রশ্ন, ওরা কী করে আমাদের এতটা ঘৃণা করতে পারল? কী করে পারল এতটা নিষ্ঠুর হতে?
