জীবনযুদ্ধের রাস্তায় কৃষ্ণের বাজি জয়

তিন ছেলেকে বড় করে তোলার লড়াই

ঘোড়া খাটিয়ে সংসার চলে তাঁর। দিন গেলে তিনশো-চারশো টাকা আয়। উত্তরবঙ্গের গাজলডোবায় এভাবেই দিন কাটাচ্ছেন তিনি। আশা, সরকারের ঘোষণামতো পর্যটনক্ষেত্র হলে গাজলডোবায় গুরুত্ব পাবে তাঁর এই উদ্যোগও। কৃষ্ণ চৌধুরী। চার বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গাজলডোবায় পর্যটন প্রকল্প ঘোষণা করার সঙ্গে তাল মিলিয়েই লড়াই শুরু হয়েছিল তাঁর। কোচবিহারের ঘোকসাডাঙ্গা থেকে ঘোড়া কিনে এনে সওয়ারির খোঁজে নেমেছেন রাস্তায়।

বড়রা পিঠে চাপলে ৪০ টাকা, ছোটদের ক্ষেত্রে ২০ টাকা। ঘোড়ার নাম ‘জয়’। হয়তো সংসারে লক্ষ্মীর মুখ ফেরাতেই ঘোড়ার এমন নাম। মানুষ করতে হবে তিন ছেলেকে। একজন প্রতিবন্ধী। বাকি দুই ছেলে পড়ে ফাইভ ও সিক্সে। ফেরিওয়ালার কাজ ছেড়ে ঘোড়া খাটানোর এই দিনযাপন কেমন? কৃষ্ণ জানান, প্রতিদিন বিকেল তিনটে থেকে ছ’টা পর্যন্ত গাজলডোবা ব্যারাজের কাছে ঘোড়া এনে পর্যটকদের ডাকা দাঁড়িয়ে গেছে অভ্যাসে। হ্যাঁ, সওয়ারি জোটেও। গাজলডোবার সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আয় বাড়বে, ছেলেদের মানুষ করতে পারবেন আরও ভালো করে – এটুকুই এখন স্বপ্ন কৃষ্ণের।

Developed by DXDasia