
ঘোষবাবু জুতোবেন বুদ্ধিজীবীদের
প্রফুল্ল ঘোষ এই বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি খুবই পণ্ডিত মানুষ ছিলেন। তবে তিনি বেশি দিন মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারেননি, কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জন্য। তার পর আমরা অনেক কাল বাংলার রাজনীতিতে বলার মতো কোনও ঘোষমশাই দেখিনি। লোকে বলে প্রকৃতিতে কোনও শূন্যতা থাকে না। ঠিকই বলে। সেই প্রাকৃতিক নিয়মেই সম্প্রতি এক ঘোষবাবুর আবির্ভাব হয়েছে বাংলার ভাগ্যাকাশে। স্বভাবে তিনি সুকুমার রায়ের বুথ সাহেবের বাচ্চার মতো। জন্মেই গুঙ্গা বলে চেঁচিয়ে উঠেছিলেন। তখন থেকেই সবাই জানত, এ ছেলে অনেক দূর যাবে। এবং গেছেনও। গেছেন বলেই না তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অমর্ত্য সেন কে? লোকটা কোন কাজে লাগে? তিনি বলেছেন, তাঁর মনের গোপন ইচ্ছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ক্যাম্পাস থেকে কলার ধরে টেনে বের করে আনবেন। তবে তা এখনও করতে পারেননি।
তার উপর এই নিয়ে তাঁর দল বাংলায় যে লিফলেট প্রকাশ করেছিল, তাতে নাকি ৫১টা বানান ভুল ছিল। শোনা যায় তা শুনে তিনি নাকি বন্ধু মহলে বলেছেন, বানান আবার কী? সরস্বতী আর ষড়শঅতি-র মধ্যে কী এমন ফারাক আছে! থাক থাক, সে আন্য কথা। এই যে তিনি যাদবপুরের ছাত্রদের কলার ধরে টেনে বের করে আনতে পারলেন না, এই যে তাঁর মনের ইচ্ছে পূরণ হল না, তাতে ঘোষমশাই খুবই মনোকষ্টে ভুগছিলেন। তার পর তিনি আচমকাই ছাত্রদের ছেড়ে ছাত্রীদের ধরলেন। বললেন, যাদবপুরের ছাত্রীরা সুবিধের নয়। সবাই ছি ছি করতে ঘোষমশাই থতমত খেয়ে একটু পিছু হটে কিছু দিন চুপ করে থাকলেন। তার পর যখন ভোজপুরি সিনেমার ছবি চালিয়ে, বাংলাদেশের ঘটনার ক্লিপিং ফেসবুকে আপলোড করে, বাদুরিয়া বসিরহাটে তেমন কিছু করতে পারল না গোরুবাবুরা, এমনকী পাশের জেলায় দাঙ্গা ছড়িয়েও পড়ল না, তাতে নাকী অনেক গেরুয়াবাবু হতাশ হয়েছেন বলে খবর।
অনেক গোরু-আঙ্কেল কপাল চাপড়েছেন। বহু গোরুগুন্ডা হায় হায় করেছে। আর ঘোষবাবুর মনে হয়েছে, এ রাজ্যের বুদ্ধিজীবীরা গোরুগুন্ডা, গেরুয়াবাবু বা চাড্ডিঘুঘুদের কথায় কান দিচ্ছে না। ঘোষবাবু আর সহ্য করতে পারেননি। ঘোষবাবু বলেছেন, সবার সামনেই বলেছেন, বুদ্ধিজীবীদের তিনি জুতিয়ে লম্বা করে দেবেন। কিন্তু কত লম্বা করবেন তা বলেননি। সেই থেকে বুদ্ধিজীবীরা খুবই চিন্তায় আছেন। কত লম্বা করবেন? ১০ ফুট? ১২ ফুট? ৪০ ফুট? কে জানে! তখন জামা জামা প্যান্ট বানাতে কত কাপড় লাগবে তাই বা কে জানে! সেই থেকে বাংলার বুদ্ধিজীবীরা বেজায় চিন্তায় আছে। ঘোষবাবু এক জন জাতীয়তাবাদী গোরুসওয়ার। তিনি নিশ্চয়ই বাটা বা রিবক বা পুমার জুতো দিয়ে জুতোবেন না। তাহলে ? কোলাপুরি না অজন্তা? যত দূর খবর, সেটা এখনও ঘোষবাবু ঠিক করে উঠতে পারেননি।
