একসঙ্গে ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’ গেয়ে উঠল দুই বাংলার দুই ব্যান্ড

দুই বাংলার পরিধি কতটা—শহরে এসে চেনাল ‘জলের গান’

জলের আবার পরিধি হয় নাকি? কিংবা বাংলা গানের? একই ভূখণ্ড, একই ভাষা। মাঝে বয়ে চলেছে নদী, বয়ে চলেছে জল এবং গান। ওপারের সেই জলের গানই মানচিত্রের পরিধি ভেঙে এল এপারের শহরে। এপার-ওপার মিলে গেল আবারও। গতকাল, দক্ষিণ কলকাতার উত্তম মঞ্চে আয়োজিত হল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা কলকাতা’-র ‘বৈশাখী উৎসব’। তাতে ছিল এপার বাংলার গানের ব্যান্ড ‘পরিধি’, ছিল ওপারের ‘জলের গান’।

বছর তিনেক ধরে কলকাতায় এক নতুন আঙ্গিকের সাংস্কৃতিক উদযাপন নিয়ে হাজির হচ্ছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। যেমনটা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে বহুদিন ধরেই দেখা যায়। যেসব উৎসব সম্প্রীতির কথা বলে, সেসব উৎসবকেই উদযাপনের আঙিনায় নিয়ে আসেন তারা। সেই কারণেই ‘পরিধি’ ও ‘জলের গান’-এর কাছেও পোঁছেছিল আমন্ত্রণ।

পরিধি দলটি মূলত নতুনদের। অবশ্য নতুন হলেও তাদের সঙ্গীত, বাদ্যযন্ত্রের ঝনঝনায় বেশ নিবিড় দক্ষতাই টের পাওয়া গেল। ড্রামস, কাহন, মেলোডিকা, বেহালা- সবমিলিয়ে সে এক ভরপুর মূর্ছনা।

পরিধির পরেই মঞ্চের দখল নেয় জলের গান। যদিও তারা পরে ‘জলের আবার পরিধি কীসের’– এই যুক্তিতে পরিধিকেও মঞ্চে ডেকে নেন। তারপর একে একে মঞ্চ ভাসিয়ে দেয় পিঠেপুলির গান, কাগজের নৌকা,  টুকটুকে লাল বেলুন, পাতার গান, বকুল ফুল বকুল ফুল-এর মতো গান। গানকে অসামান্য সঙ্গত করছিল বাদ্যযন্ত্রও। বাঁশিতে-ঢাকে-বেহালাতে-এস্রাজে সুরের এক অদ্ভুত ব্যঞ্জনাময় কথোপকথন নির্মিত হয় মঞ্চে। একটা কাঁচের বোতল বা টিনের পাইপও হয়ে উঠল তাঁদের বাজনা।

গতকালের সবথেকে আবেগঘন মুহূর্তটি হল দুই বাংলার একসঙ্গে ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’ গানটি গাওয়া।  দর্শকাসনে বাংলাদেশেরও অনেক মানুষ ছিলেন। আর এই গানটি মঞ্চ পেরিয়ে এসে পড়েছিল দর্শকদের মাঝে। ফলে এপারওপার মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল গানটির সময়। ধর্ম-রাষ্ট্রীয় পরিচয় বিভাজনের বেড়া তৈরি করে, বেড়া ভাঙে শিকড়ের ইতিহাস। জলের মতোই তা আবহমান। মানচিত্রের থেকেও অনেক বড়ো তার পরিধি।

তথ্য সাহায্য- সুরমিতা কাঞ্জিলাল।
ছবি- সায়ন রায়।

Developed by DXDasia