
চেপে যাওয়া যক্ষা প্রতিরোধে অভিনব উদ্যোগ
এখনও বহু মানুষ টিবি রোগে আক্রান্ত হলে সেটা চেপে রাখার চেষ্টা করেন। কিছু মানুষের অমূলক ধারণা আছে যে টিবি বা যক্ষা আসলে সমাজের নিচুতলার মানুষের রোগ। যক্ষায় আক্রান্ত হলে অযথা লজ্জার কবলে পড়েন তাঁরা। দেখা গেছে, টিবি রোগীদের একটা বড়ো অংশ মাঝপথেই বন্ধ করে দেন চিকিৎসা। তাই যক্ষা রোগীদের চিহ্নিত করতে হিমসিম খেতে হয় সরকারকে। বাধ্য হয়ে, এবার ‘জিৎ’ প্রকল্পের মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বসে সেখানকার রোগীদের নথিভুক্তির কাজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
সরকারি পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, কলকাতার প্রায় ৭০ শতাংশ লোক যক্ষার প্রাথমিক উপসর্গ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালের শরনাপন্ন হন, কিন্তু নোটিফায়েবল ডিজিস হওয়া সত্ত্বেও গোটা ২০১৮ সালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৭% যক্ষা রোগীর নাম সরকারি খাতায় নথিভুক্ত হয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে ‘জিৎ’ প্রকল্পের মাধ্যমে কলকাতায় ৩৬টি এবং হাওড়ায় ২০টি হাব তৈরি হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালে চিহ্নিত হওয়া টিবি রোগীদের নিয়ে গিয়ে যক্ষা নিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। প্রয়োজনে ওই সেন্টারগুলো থেকেই ডটসের চিকিৎসা চলছে সেই সব রোগীর। রয়েছে ওষুধ দেওয়ার বন্দোবস্তও।
‘জিৎ’ প্রকল্পে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছে স্বাস্থ্য দপ্তর। যক্ষা রোগীদের নাম নথিভুক্তির কাজে গতি আসায় কমেছে মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করার প্রবণতাও। কলকাতা এবং হাওড়ার অভিজাত এলাকায় বেশ কিছু যক্ষা রোগীকে চিহ্নিত করে তাঁদের চিকিৎসাও শুরু করা গেছে।
