আজ পটুয়া শিল্পীর জন্মদিন

নিজেকে ‘পটুয়া’ বলতে ভালোবাসতেন তিনি। যামিনী রায়ের জন্মদিনে তাঁরই সৃষ্টির ইতিকথায় ডুব দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন বঙ্গদর্শনের।

ফেসবুক-বাঙালি, কলকাতা ও ভারতবর্ষ সব জুড়ে গেল চার্চের সঙ্গে। যার খোঁজ আমাদের রাখা হয় না। এই চার্চের সঙ্গে বাঙালির হৃদয়, মনন জুড়ে দিলেন যামিনী রায়।
আজ যামিনী রায়ের জন্মদিন। ১৮৮৭ সালে আজকের দিনেই বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড়ে এই প্রবাদ প্রতিম শিল্পীর জন্ম। তাঁর জন্মদিনে বঙ্গদর্শনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে আমরা চোখ রাখব কলকাতার সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল গির্জায়। সেখানে রয়েছে যামিনী রায়ের আঁকা একটি ছবি ‘লাস্ট সাপার’। আসুন, ‘পটুয়া’ শিল্পীর জন্মদিনে আমরা ডুব দিই তাঁরই এই অমর সৃষ্টির ইতিকথায়।

১৮৩৯। একটি চোখ জুড়ানো গির্জা পেল কলকাতা। গথিক রিভাইভ্যাল শৈলীতে তৈরি। গির্জাতে বসল স্টেইন্ড গ্লাসের জানালা, গির্জার দেওয়ালে লাগল ফ্লোরেন্স শৈলীর ভিত্তি চিত্র। সেই থেকে চলছে। কিন্তু এরই মধ্যে বাঙালি,কলকাতা ও ভারতবর্ষ সব জুড়ে গেল চার্চের সঙ্গে। যার খোঁজ আমাদের রাখা হয় না। এই চার্চের সঙ্গে বাঙালির হৃদয়, মনন জুড়ে দিলেন যামিনী রায়।

বাংলা তখন একদিকে আটটা নটার সূর্যের আলোর খোঁজে যেমন উত্তাল অন্যদিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াইতে জড়িয়ে পড়তে চলেছে দেশ। এদেশের মানুষ তত দিনে প্রভু যীশুর মধ্যে নিজেদের প্রাণের মানুষের সন্ধান পেয়েছেন। কারণ এদেশের জনগণ তত দিনে জেনেছেন যীশু রাজার বিরুদ্ধে লড়াই করে প্রাণ দিয়েছেন, আবার ইনি দরিদ্র মানুষের মধ্যে রুটি বিলি করেন। এমন মানুষই তো তাঁদের প্রাণের মানুষ হবেন। এরকম অবস্থায় বিশপ এইচ লাকদাসা জে ডেল মেল চাইলেন উপাসনার নিয়ম কানুনে ভারতীয় ভাব ধারা আনতে। বাঙালি শিল্পীদের কথাও ভাবলেন গির্জার ছবির জন্যে। সেই ভাবনা থেকেই যামিনী রায়ের সঙ্গে নিরন্তর কথা বললেন বিশপ। আর সেই সূত্রেই যামিনী রায় এই গির্জার জন্যে আঁকলেন লাস্ট সাপার। বাঙালি সেদিন একাধিক রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতার সঙ্গে লাস্টসাপার ছবিটিকে মিলিয়ে নিয়েছিল। কারণ নৈশভোজের গল্পের মধ্যেই রয়েছে যিশুর বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনির ইঙ্গিত।

Developed by DXDasia