অবশেষে পঞ্চাশে পা- বিভেদে না, মানুষ ভালোবাসায় থাক

মঙ্গলবার এলজিবিটিকিউ-র এই গর্বের অধ্যায়কে স্মরণ করল গুগল

১৯৬৯ সালের ২৮ জুন। পুলিশি হানার প্রতিবাদে আমেরিকার কিছু সমপ্রেমী মানুষ আন্দোলন শুরু করলেন, যা স্টোনওয়াল রায়টস নামে পরিচিতি। শুরুটা সেই থেকেই। ১৯৬৯ সালের সেই দিন থেকে তাই জুন মাসকে প্রাইড মান্থ বা গর্বের মাস হিসাবে উদ্‌যাপন করা হয়। প্রসঙ্গত ভারতবর্ষে সমপ্রেমের আন্দোলন আসে অনেক পরে। যেমন কলকাতা শহরে রেনবো প্রাইড ওয়াক শুরু হয় আজ থেকে কুড়ি বছর আগে ১৯৯৯ সালের ২ জুলাই।

মঙ্গলবার এলজিবিটিকিউ-র এই গর্বের অধ্যায়কে স্মরণ করল গুগল। বদলে ফেলল তাদের লোগো। একটুকরো ইতিহাস ভেসে এল সেখানে। ১৯৬৯ থেকে ২০১৯- একটা গর্বের জার্নি, যার রং রামধনু। মঙ্গলবারের ডুডল স্মরণ করছে তেমনই এক ইতিহাস। আসলে রাষ্ট্র যখন নিজেকে সর্বশক্তিমান মনে করে, তখন পথে নামা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। রাষ্ট্রশক্তির অহং যখন তীব্র হয়ে শ্বাসরোধ করতে চায়, তখন নিজেদের পরিচিতি আর অধিকারের দাবিগুলো নিয়ে প্রতিরোধের কন্ঠস্বরকে পৌঁছে দিতেই হয় এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। ‘প্রান্তিক’ পরিচিতির লড়াই হয়ে ওঠে আরও সঙ্কল্পবদ্ধ। মূলস্রোত কী, কে তা ঠিক করে দেয়, সেই তর্ক চলতেই থাকবে। কিন্তু কোনও অবস্থাতেই নিজের শরীর, মন, লিঙ্গ পরিচিতি, যৌন পরিচিতির নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। ঠিক এই জায়গা থেকে দাঁড়িয়েই বিশ্বব্যাপী সমপ্রেমী মানুষের এই অধিকার আন্দোলন সমাজে যে জনজোয়ার সৃষ্টি করেছিল একসময়, আজও তা অব্যাহত আছে। তাঁরা আর ঘরের কোণে চোখের জল ঝরাবার কথা ভাবেন না, বরং কণ্ঠ জোরালো করে নিজেকে প্রকাশ করাই প্রতিবাদ বলে মনে করেন। অবশেষে পঞ্চাশে পা। বিভেদে না, মানুষ ভালোবাসায় থাক।

হেডের ছবি- প্রতীক দে চৌধুরী। বাকি ছবি গুগল থেকে প্রাপ্ত। 

Developed by DXDasia