
ভারতকে শিক্ষা দিতে চায়, বলল চিন
সিকিম সীমান্তে উত্তেজনা জারি। তারমধ্যেই বৃহস্পতিবার দু’দিনের বেজিং সফরে যাচ্ছেন বিদেশ সচিব এস জয়শংকর এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। ঠিক তার আগে অজিত ডোভালকে তুলোধনা করল চিনের রষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। ‘দ্য গ্লাবাল টাইমস’–এর উত্তর-সম্পাদকীয় নিবন্ধে কার্যত হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘ভারত ভুলে যায় সব কিছু। ওদের দ্বিতীয় বার শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে।‘। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে ‘কুচক্রী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই নিবন্ধে।’ উত্তর-সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ‘অজিত ডোভালের বেজিং সফর নিয়ে খুব উত্তেজিত ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। তারা হয়তো ভাবছে এবার বিরোধ মিটে যাবে। যা একেবারেই ঠিক নয়। চিন মোটেই ভারতের ইচ্ছে মতো চলবে না। তাই ডোভাল বুঝে শুনে মুখ খুললেই ভাল। সীমান্ত সমস্যা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কোনওরকম দরাদরিতে যাবে না বেজিং।’
আগামী ২৭ ও ২৮ জুলাই বেজিংয়ে ব্রিকস অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠক। তাতে যোগ দিতে যাচ্ছেন অজিত ডোভাল। সেখানে চিনের স্টেট কাউনসিলর উপদেষ্টা ইয়াং জিইচির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন তিনি। তবে ডোকা লা নিয়ে কোনওরকম আলোচনায় যেতে রাজি নয় বেজিং। সোমবারই তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল তারা। চিনের বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, ‘ভারত ডোকা লা থেকে নিঃশর্তে সেনা না সরালে আলোচনার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। ব্রিকস সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতেই সদস্য দেশগুলির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা বৈঠকে বসছেন। সেখানে ইন্দো–চীন সীমান্ত প্রসঙ্গ টেনে আনা অর্থহীন।’ এই প্রসঙ্গে ১৯৬২ সালের যুদ্ধের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে তারা। মুখোমুখি সঙ্ঘর্ষে লিপ্ত হলে আদতে ভারতেরই ক্ষতি হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ আগে মন্তব্য করেছিলেন, ১৯৬২ সালের ভারত আর ২০১৭ সালের ভারত এক নয়। ওই নিবন্ধে এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, গত ৫৫ বছরে চিনও অনেক পালটে গিয়েছে। ফলে ভারতকে দ্বিতীয় বার শিক্ষা দিতে তারা সক্ষম। এরই মাঝে পাকিস্তানও নেমে পড়েছে সুযোগ নিতে। ভারতের পাক হাই কমিশনার আবদুল বশিত ইতিমধ্যেই দি্ল্লিতে চিনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গ্লোবাল টাইমস লিখেছে, ‘‘ডোকলাম নিয়ে চিনের এলাকায় ঢুকে যাওয়ার যে যুক্তি দিল্লি হাজির করছে, সেই যুক্তিতেই পাকিস্তানের আমন্ত্রণে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে তৃতীয় কোনও দেশ ঢুকে যেতেই পারে’’। ভারতকে শৃঙ্খলাহীন প্রতিবেশী বলে মন্তব্য করে চিনের সরকারি মুখপত্র বলেছে, দিল্লিকে সেই ভাষাতেই জবাব দিতে হবে যে ভাষা তারা বুঝবে’।
