
বইখাতা কিনে পড়া চালিয়ে যাওয়াই ওদের কাছে বড় লড়াই এখন
ওদের একজনের নাম সুদীপ্ত দাস। বাবা মা তামিলনাড়ুতে থাকেন। আয়লা ঝড়ের সময় সুন্দরবনে সুদীপ্তদের বাড়িঘর উড়ে যায়। তারপর থেকে সুদীপ্তর ঠিকানা শিলিগুড়ি টিকিয়াপাড়ার অনাথ আশ্রম। আরেকজন শুভঙ্কর লস্কর, বাড়ি কোচবিহারে। ওর বাবা নেই, মা আছেন। কিন্তু আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তারও ঠিকানা শিলিগুড়ির ঐ অনাথ আশ্রম। সুদীপ্ত আর শুভঙ্কর, দুজনেই আগামী বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসবে। একজন হতে চায় পুলিশ, আরেকজনের ইচ্ছে ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু বইখাতা কিনে পড়া চালিয়ে যাওয়া ওদের কাছে বড় লড়াই।
ওদের মতনই লব সরকার, রাজেশ সরকার, উৎপল সর্দার সহ মোট ১১ জন থাকে শিলিগুড়ি টিকিয়াপাড়ার শ্রীশ্রী পরমানন্দ যোগানন্দ যোগাশ্রমে। সকলেই ছাত্র। শুক্রবার সেখানে যোগানন্দ পরমহংসদেবের ১৭২ তম জন্মতিথিতে সেখানে বাউলগান ও অন্য অনুষ্ঠান হল। আর সেখানেই শিলিগুড়ি সুভাষপল্লীর ফুলেশ্বরী নন্দিনী নামে একটি সংস্থার পক্ষ থেকে ঐ আশ্রমের সঞ্জয় মহারাজের হাতে কিছু টাকা অর্থসাহায্য করা হয়। ফুলেশ্বরী নন্দিনীর তরফে সম্পাদিকা কণিকা দাস জানান, এইসব দুঃস্থ অনাথদের হাতে তাঁরা এদিন বইখাতার জন্য কিছু যেমন সহযোগিতা করলেন তেমনই আগামী রাখিবন্ধনের দিন আবার এসে এদের হাতে কিছু সাহায্য করবেন। এইসব দুঃস্থ ও অনাথেরা পড়তে চাইলেও পাঠ্যপুস্তক, খাতাকলমের জন্য পড়তে পারে না। এদের মধ্যে সঙ্গীতচর্চা, বিজ্ঞান মডেল তৈরির প্রতিভাও রয়েছে। তাঁরা তাই সবসময় এদের পাশে থাকবেন, এমনই বক্তব্য কণিকা দাসের।
