
গীতিকার হিসাবে প্রথম রেকর্ড ছিল শচীনদেব বর্মনের কণ্ঠে ‘মধু বৃন্দাবনে’
“জোছনা করেছে আড়ি/ আসেনা আমার বাড়ি/ গলি দিয়ে চলে যায়/ লুটিয়ে রুপোলি শাড়ি/ চেয়ে চেয়ে পথ তারই,/ হিয়া মোর হয় ভারি/ রূপের মধুর মোহ,/ বলোনা কী করে ছাড়ি”- লাইনগুলো এমনই ছিল। এখনও কি গুনগুন করি না আমরা! কিছু কিছু গান থেকে যায়, যা যুগের সীমা অতিক্রম করে হয়ে ওঠে কালজয়ী। বাংলা গানের ইতিহাসে তেমনই একটি সৃষ্টি “জোছনা করেছে আড়ি”। গাইছেন বেগম আখতার, কথা ও সুর দিচ্ছেন রবি গুহ মজুমদার। গীতিকার-সুরকার রবি গুহ মজুমদারকে প্রায় ভুলতে বসেছে বাংলা। ২০১৯ সাল যে তাঁর শতবর্ষ, এ খবর হয়তো কেউ রাখে না। তাঁকে সম্মান জানাতে এবং শতবর্ষ জন্মদিন পালন করতে কলকাতা অর্পণ আয়োজন করেছিল একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। কলকাতার আশুতোষ মেমোরিয়াল হলে। এদিন উপস্থিত ছিলেন শিল্পীর স্ত্রী অরুণিমা গুহ মজুমদার এবং ছোটো ছেলে কলাপ গুহ মজুমদার।
১৯১৮ সালের ১৫ জুলাই ভবানীপুরের বেণীনন্দন স্ট্রিটে জন্মগ্রহণ করেন এই প্রবাদপ্রতীম শিল্পী। তাঁর গীতিকার হিসাবে প্রথম রেকর্ড ছিল শচীনদেব বর্মনের কণ্ঠে ‘মধু বৃন্দাবনে’। রবি গুহ মজুমদারের লেখা আরেকটি অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘মন দিল না বঁধু’। ১৯৭২ সালে নিজের লেখা ও সুরে তৈরি করলেন ‘জোছনা করেছে আড়ি’। বাঙালি সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যরাতের সঙ্গী এই গান বারবার রবি গুহ মজুমদারকে মনে করাবে। গানটি শুনতে শুনতে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠেন বেগম আখতার। কিন্তু যিনি সৃষ্টি করলেন, তিনি আড়ালেই থেকে গেলেন আজীবন। শতবর্ষে তাঁকে প্রণাম।
