খুশির খবর ইকোপার্কে, চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে মধু চাষ – পড়ুন সারাদিনের বাছাই করা খবর

দিনযাপনে বাছাই চার

ইকোপার্কে চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে মধু চাষ

নিউ টাউনের ইকোপার্কে মধু চাষে উদ্যোগী হয়েছে হিডকো। চলতি মাসেই পার্কের বাটারফ্লাই গার্ডেনের একটি অংশে মৌমাছি পালন শুরু হবে। মৌমাছিদের কলোনি তৈরি করানো হবে দশটি বাক্সের মধ্যে। এই মৌমাছিগুলি যাতে সাধারণ মানুষকে আক্রমণ না করে, তার জন্য লোহার ঘন জালের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। মধু চাষে ব্যবহার করা হবে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং ইন্টারনেট অফ থিংস প্রযুক্তি। সমস্ত প্রকল্পটি কাজে পরিণত করার দায়িত্ব একটি স্টার্টআপ সংস্থাকে দিয়েছে হিডকো। কাজ শুরু হলে আশেপাশের গ্রামের মানুষরাও রোজগারের সুযোগ পাবেন। মার্চ নাগাদ মধু তৈরি হয়ে যাবে বলে হিডকো কর্তারা মনে করছেন। তাঁদের আশা, বছরে প্রায় ৮০ কেজি মধু তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এখানে।

বইমেলার সময় অটোর ভাড়া বাড়ানো যাবে না, সাফ জানিয়ে দিলেন বিধাননগরের যুগ্ম নগরপাল

কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা আরও সুসজ্জিত হচ্ছে। সেন্ট্রাল পার্ক জুড়ে নতুন রাস্তা তৈরির জন্য বিবিধ আয়োজন করা হচ্ছে। বেশি পরিমাণে আলো থাকবে এবং গাছ বসানো হবে। সেইসঙ্গে জলের ব্যবস্থা আগের চেয়ে পরিমাণে বাড়বে। সোমবার বিধাননগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বইমেলা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানে বিদ্যুৎ দপ্তর, সমকল, টেলিফোন, জনস্বাস্থ্য, নগরোন্নয়ন দপ্তরের অনেকে হাজির ছিলেন। পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক সুধাংশুশেখর দে এবং সভাপতি ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়ও ছিলেন সেখানে। সেন্ট্রাল পার্ক জুড়ে গাড়ি পার্কিং-এর সংখ্যা বাড়ানো নিয়েও এদিক কথা হয়। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বইমেলার দশটা দিন অধিকাংশ জায়গায় অটোর ভাড়া বেশি দিতে হয় যাত্রীদের। তাতে এর আগে কম ঝামেলা হয়নি। অটো চালকদের খারাপ ব্যবহারের চক্করে পড়ে হেনস্থা হতে হয় অধিকাংশ যাত্রীদের। তাই বিধাননগরের যুগ্ম নগরপাল কুণাল আগরওয়াল সাফ জানিয়ে দেন, এবার থেকে তা আর করা যাবে না। উল্টোডাঙা, ফুলবাগান, কাঁকুড়গাছি, বেলেঘাটা–সহ আশেপাশের এলাকার অটোর ভাড়া সারা বছর যেমন থাকে, তাই থাকবে। এর বাইরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে অটো চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। কলকাতা বইমেলা শুরু হচ্ছে আগামী ২৯ জানুয়ারি, চলবে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

অঞ্জন দত্তের নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের ‘বিসর্জন’, রঘুপতি তিনিই

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘বিসর্জন’ নাটকে জয়সিংহকে দিয়ে বলিয়ে নিচ্ছেন সেই অমোঘ সত্য কথাটি, “দেবতার নামে মনুষ্যত্ব হারায় মানুষ”। নাটকটি লেখা হচ্ছে ১৮৯০ সালে। তারপর কেটে গেছে ১৩০ বছর। সমগ্র নাটকটি বাদ দিলেও শুধুমাত্র উল্লিখিত এই সংলাপ এখনও প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি। মনুষ্যত্বই যে শ্রেষ্ঠ ধর্ম, তা ২০২০ সালেও জনে জনে মনে করিয়ে দিতে হচ্ছে। ধর্মীয় হানাহানি এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ক্রমশ মাথাচাড়া দিচ্ছে। সময় এগোচ্ছে, কিন্তু ভাবনা-চিন্তা? যুক্তি? ‘বিসর্জন’ নাটক আদতে সমাজের ব্রাহ্মণ্যবাদ বা পুরুষতন্ত্রকে বারবার খণ্ডন করতে চেয়েছে। তাই যে দেশটা চরম ব্রাহ্মণ্যবাদ এবং শ্রেণি বিভাজনের শিকার, তা এই নাটক পড়লে পরতে পরতে বোঝা যায়। এই প্রথমবার দেশীয় ক্লাসিক করতে চলেছেন অঞ্জন দত্ত। তাঁর মতে, জীবনের শেষ পর্যায়ে হয়তো রবীন্দ্রনাথই ভরসা। সেখানেই ফিরে আসতে হয়। তবে রবীন্দ্রনাথের ‘বিসর্জন’ নাটকটির ভাবার্থ ব্যবহার করবেন অঞ্জন। ‘ছাগল বলি’কে ‘নরবলি’ কিংবা সরাসরি বিজাতীয়দের ‘বলি’ করা হবে। রঘুপতি আর রাজা গোবিন্দমাণিক্যর লড়াই হবে হিন্দু বনাম দলীয় রাজনীতির। অপর্ণাকে দেখাতে চাইছেন একজন মুসলিম মেয়ে হিসাবে। রঘুপতি এবং জয়সিংহর দ্বন্দ্ব দেখানো হবে বড়ো আকারে। পুরো নাটকটিই মঞ্চস্থ হবে চলিত ভাষায়। এমনকি নাটকের নাম রাখা হয়েছে ‘রঘুপতি’। রঘুপতির চরিত্রে থাকছেন স্বয়ং অঞ্জন দত্ত। জয়সিংহ সুপ্রভাত ব্যানার্জি। সঙ্গীত পরিচালনায় নীল দত্ত। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি, সন্ধে ৭টায়, জ্ঞান মঞ্চে এই নাটকের প্রথম অভিনয় মঞ্চস্থ হবে।

পরিযায়ী পাখিরা ভিড় করছে সাঁতরাগাছির ঝিলে, গবেষকদের অনুমান দূষণ কমছে

ক্রমশ কমে আসছে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা। হাওড়ার সাঁতরাগাছি ঝিলের মাঝে কচুরিপানার ছোটো দ্বীপগুলিতে ক্রমশ কমে আসছিল পাখিরা। পাখি সুমারিতে দেখা গেছে ২০১৮ সালে ১৪ প্রজাতির পাখির সংখ্যা ছিল মাত্র ৮০০। ২০১৯ সালে মাত্র ৬ প্রজাতির পাখি এসেছিল, সংখ্যা ছিল ২,৮৮৯। হতাশ হয়ে পড়েছিলেন পক্ষীপ্রেমিকরা। তবে এই বছরের শুরুতেই দেখা গেছে স্থানীয় এবং বিদেশি পাখিদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। পাখিদের দল ভিড় করেছে সাঁতরাগাছির ঝিলে। প্রকৃতি সংসদের পক্ষ থেকে আগামী ১৮-১৯ জানুয়ারি সাঁতরাগাছি ঝিলের পাখি গণনা এবং স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের পাখি চেনানোর জন্য একটি শিবির আয়োজন করা হয়েছে। গবেষকদের অনুমান, আগের চেয়ে দূষণ কিছুটা হলেও কমেছে। তাছাড়া কচুরিপানায় ভরে যাওউয়ার ফলে পাখিদের ঝিলে আসতে সমস্যা হয়েছিল। সেই সমস্যা এখন আর নেই। তাই ২০২০ সালে পাখির সংখ্যা অনেকাংশেই বাড়বে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
Developed by DXDasia