
শ্যামবাজার থেকে শিয়ালদার পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে সময় লাগল তিনমিনিট
এর আগেও গ্রিন করিডর দেখেছে কলকাতা। প্রতিস্থাপনের জন্য আনা অঙ্গ যাতে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছতে পারে, তার জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ করিডর। কিন্তু, একজন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনেও যে গ্রিন করিডর তৈরি হতে পারে, তা কালই প্রথম দেখল শহরবাসী।
সকাল ৯টা বেজে ৫০ মিনিট। শ্যামবাজারের পাঁচমাথার মোড়ে দাঁড়ানো কয়েকজন দেখতে পান একটি মেয়েকে। স্কুল ইউনিফর্ম গায়ে। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। মেয়েটিকে কাঁদছে কেন জানতে দ্রুতই ভিড় জমে যায় তাকে ঘিরে। তখনই টহলে বেরিয়েছিলেন শ্যামপুকুর থানার অতিরিক্ত ওসি সুব্রত দাস। জটলা দেখে শ্যামবাজারে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট রাজীব সিং-কে সঙ্গে করে এগিয়ে আসেন তিনি। মেয়েটি কাঁদছে কেন জিজ্ঞেস করেন তাঁরা। মেয়েটি জানায়, আর ৫ মিনিট পরেই তার পরীক্ষা শুরু। রাস্তায় দেরি হয়ে গেছে। পরীক্ষাকেন্দ্রও কাছে নয়। তার আর পরীক্ষাই দেওয়া হবে না হয়তো।
এই কথা শোনার পরেই মেয়েটিকে নিজের গাড়িতে তুলে নেন শ্যামপুকুর থানার অতিরিক্ত ওসি সুব্রত দাস। ইতিমধ্যেই, কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে কথা বলে গোটা রাস্তাই গ্রিন করিডর করে তোলা হয়েছে। মিনিট তিনেকের মধ্যেই তিন কিলোমিটার দূরের ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশনের পরীক্ষাকেন্দ্রে মেয়েটিকে পৌঁছে দেন তিনি। কান্না ভুলে মেয়েটির মুখে তখন উজ্জ্বল হাসি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটির নাম আমিশা যাদব। বড়োবাজারের মহেশ্বরী বিদ্যালয়ের ছাত্রী। বৃহস্পতিবার ছিল ইংরেজি পরীক্ষা। বাড়ি থেকে বেরোতেই খানিক দেরি করে ফেলেছিল সে। যদি, গ্রিন করিডর তৈরি করে তাকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে না দিতেন শ্যামপুকুর থানার অতিরিক্ত ওসি, তাহলে হয়তো একটা বছরও নষ্ট হতে পারত মেয়েটির। এর আগে, মাধ্যমিকের সময়ও এইভাবে বেশ কয়েকজনকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ।
তবে, ছাত্রীকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গ্রিন করিডর এই প্রথম দেখল শহর।
