বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ খুন

মৌলবাদের বিরোধিতা করায় খুন?

কর্নাটক রাজ্যে সাংবাদিকতার এক নতুন দিক খুলেছিলেন পি লঙ্কেশ। সত্যবাদী এবং সাহসী সাংবাদিকতায় খ্যাতি অর্জন করেছিলেন পি লঙ্কেশ। এহেন পিতার বড় মেয়ে গৌরীও এই পথের পথিক হয়েছিলেন। সাংবাদিকতাকে তিনি এক সত্যের উপরে স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, এই লড়াইয়ে মঙ্গলবার হার মানলেন গৌরী। রাত ৮টা নাগাদ বাড়ির সামনে তাঁকে গুলি করে হত্যা করল দুষ্কতীরা।

জানা গিয়েছে বেঙ্গালুরুর রাজারাজেশ্বরী নগরের বাড়ির সামনে হাঁটছিলেন গৌরী লঙ্কেশ। বাড়ির সদর খুলে ভিতরে ঢুকেও পড়ছিলেন। এমনই সময় বছর পঞ্চান্নর গৌরীকে খুব কাছ থেকে পরপর গুলি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে ঘটনাস্থল থেকে চারটি কার্তুজের খোল মিলেছে। একটি গুলি গৌরীর কপালকে এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়েছিল। তড়িঘড়ি গৌরীকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও কোনও লাভ হয়নি। কারণ, ঘটনাস্থলে মারা গিয়েছিলেন গৌরী।

এই ঘটনায় কর্নাটকের মুখ্য,মন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া পুলিশকে তিনটি তদন্তকারী দল গঠন করতে বলেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে ধরতে নির্দেশ দিয়েছেন। সিদ্ধারামাইয়া জানিয়েছেন, 'এই নিয়ে পুলিশ কমিশনার এবং ডিরেক্টর জেনারেলর সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে।'

বাবা পি লঙ্কেশের মতোই বামপন্থী মনোভাবাপন্ন ছিলেন গৌরী। ধর্মীয় শান্তিস্থাপনের জন্য কাজ করত এমন কিছু সংগঠনের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তাঁর প্রকাশ করা ট্যাবলয়েড 'লঙ্কেশ পত্রিকে'-র লেখাপত্তর নিয়ে বিস্তর বিতর্কও হত। বহুবার হিন্দুত্ববাদীদের কড়া চোখ রাঙানির সামনেও পড়তে হয়েছিল গৌরী লঙ্কেশকে। তাঁকে হিন্দু বিরোধী বলেও কেউ কেউ অ্যাখ্যা দিয়েছিল। বিজেপি সাংসদ প্রহ্লাদ জোশীর বিরুদ্ধে লেখা লিখে মানহানির মামলায় অভিযুক্তও হয়েছিলেন গৌরী। এর জন্য তাঁকে ছয় মাসের জন্য জেলেও কাটাতে হয়েছিল। বর্তমানে তিনি জামিনে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন।

গৌরীর হত্যাকাণ্ডের পর রাজনীতি থেকে শুরু করে সব মহলই সমানে প্রতিক্রিয়া দিয়ে চলেছে। তাঁকে চিনতেন এমন বহু মানুষ টুইট করেও দুঃখপ্রকাশ করেছেন। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন জানিয়েছেন, খবরটা শুনে তিনি সত্যিকারেই শোকস্তব্ধ। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে টুইট করেছেন। তাঁর মতে, এই ঘটনা খুবই উদ্বেগের। আমরা বিচার চাই।

সিপিএম-এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও টুইট করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।

২০১৫ সালে ঠিক এভাবেই নিজের বাড়ির সামনে খুন হয়েছিলেন বুদ্ধিজীবী তথা মুক্তমনা বলে খ্যাতি পাওয়া এমএম কালবর্গী। ৭৭ বছরের এই মুক্তমনা চিন্তাবিদকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।

গৌরী মৃত্যুকালে রেখে গেলেন মা, বোন এবং ভাইকে। ইন্দ্রজিথ নামে এই ভাই শুধু সিনেমা পরিচালনা করেনই না সেইসঙ্গে দিদির সঙ্গে 'লঙ্কেশ পত্রিকে'-র দেখভালও করতেন।

Developed by DXDasia