
বাংলা থিয়েটারে নতুন দিশা এনেছিল গিরিশ কারনাডের নাটক
চলে গেলেন ভারতীয় চলচ্চিত্র এবং থিয়েটারের কিংবদন্তী অভিনেতা ও প্রবাদপ্রতীম নাট্যব্যক্তিত্ব গিরিশ কারনাড। আজ সকালে ব্যাঙ্গালুরুতে লাভেরি রোডে নিজের বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তাঁর মৃত্যুতে ভারতের থিয়েটার জগতে একটা গৌরবময় যুগের অবসান ঘটল।
চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কন্নড় ভাষায় লেখালেখির কাজ শুরু করেন ১৯৬০ সালে। তাঁর লেখা নাটকগুলি মানুষকে নতুন করে চিন্তার খোরাক জোগাত। ১৯৭০-এ কন্নড় ছবি ‘সংস্কার’ তাঁর প্রথম অভিনীত ছবি। পরের বছর কন্নড় ছবি ‘বংশবৃক্ষ’-র হাত ধরে পরিচালনার জগতেও পা রাখেন গিরিশ কারনাড। অভিনয় করেছেন হিন্দি সহ নানা ভাষার চলচ্চিত্রে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ১৯৭৪ সালে পদ্মশ্রী এবং ১৯৯২ সালে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয় তাঁকে।
বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনার প্রেক্ষিতে বারবার নিজের সাহসী কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছেন এই কিংবদন্তী নাট্যব্যক্তিত্ব। তাঁর নাটকগুলোতে উঠে এসেছে প্রতিবার আর প্রতিরোধের বয়ান। বাংলা থিয়েটারে তাঁর ‘রক্তকল্যাণ’, ‘হয়বদন’, ‘তুঘলক’-এর মতো যেসব নাটক খুব সফলভাবে মঞ্চস্থ হয়েছে, সেগুলোতেও ধ্বনিত হয়েছে ফ্যাসিবাদ এবং মৌলবাদের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ। মৃত্যুর হুমকিও এসেছে তাঁর কাছে।

গৌরী লঙ্কেশের হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের থেকে একটি ডায়রি উদ্ধার করেন। সেখানে একটি তালিকায় গিরিশ কারনাডের নাম ছিল একেবারে প্রথমে। দু’নম্বরে ছিল গৌরী লঙ্কেশের নাম। বিটি ললিতা নায়েক, বীরভদ্র চান্নামাল্লা, সি এস দ্বারকানাথের নামও সেখানে ছিল। যাঁদেরকে হত্যা করার পরিকল্পনা চলছিল, তাঁদের নামেরই তালিকা ছিল সেটা। এরা সবাই ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং উগ্র জাতীয়তাবাদের কঠোর সমালোচক।
এত কিছু সত্ত্বেও গিরিশ কারনাডের প্রতিবাদী স্বর দমিয়ে রাখা যায়নি। গৌরী লঙ্কেশের হত্যাকাণ্ডে তিনি গর্জে উঠেছিলেন। সারা দেশ জুড়ে প্রতিবাদী বুদ্ধিজীবীদের ‘আরবান নকশাল’ নাম দিয়ে গ্রেপ্তার করা শুরু হলে নিজেকেও ‘আরবান নকশাল’ বলে ঘোষণা করেছিলেন গিরিশ কারনাড। তাঁর কয়েকটি নাটক বাংলাদেশেও অভিনীত হয়েছে। গিরিশ কারনাড রচিত নাটকের বাংলা রূপান্তর কলকাতার থিয়েটার জগতেও নতুন দিশা এনেছিল।
